২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দেওয়া অভিনন্দনবার্তায় ড. ইউনূস বলেন, নাভি পিল্লাই তাঁর জীবন ন্যায়বিচারের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন এবং আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে তাঁর অবদান আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
অভিনন্দনবার্তায় ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য। ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং যাঁদের কণ্ঠস্বর প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এই সম্মাননা বিচারপতি পিল্লাইয়ের সাহস ও সততার স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচার ও শান্তি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বার্তার শেষে তিনি নাভি পিল্লাইয়ের প্রতি শুভকামনা জানান।
নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজ্ঞ ও বিচারপতি। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া রুয়ান্ডার গণহত্যা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান, মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান নতুন করে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেল।