রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানির সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা বুন্ডেসনাখরিশটেনডিন্সটের (BND) প্রধান মার্টিন ইয়াগার। তাঁর দাবি, ইউরোপের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার তথাকথিত ‘ছায়াযুদ্ধ’ ক্রমেই আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জার্মান পার্লামেন্টের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বার্ষিক প্রকাশ্য শুনানিতে ইয়াগার বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানির চলমান সংঘাত নতুন ও আরও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। জার্মানি কোনো একপর্যায়ে রাশিয়ার সঙ্গে সহিংস সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
BND প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার গোয়েন্দা তৎপরতা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড জার্মানির জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে। সাইবার হামলা, ড্রোন হামলার চেষ্টা, নাশকতা ও অন্যান্য হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জার্মান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।
ইয়াগার বিশেষভাবে গত আগস্টে লাইপজিগ বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোন হামলার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এটি জার্মানির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকির একটি উদাহরণ। জার্মান কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছে; তবে মস্কো ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।
তবে BND প্রধান বলেছেন, ন্যাটোর ভূখণ্ডে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের সামরিক হামলার কোনো ইঙ্গিত নেই। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, বাল্টিক অঞ্চলে তুলনামূলক কম মাত্রার সামরিক তৎপরতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া জার্মানির অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করছে। ইউক্রেনকে জার্মানির অব্যাহত সহায়তার কারণেও বার্লিনকে মস্কো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে বলে তাঁর বক্তব্য।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপে উত্তেজনা আরও বাড়ার মধ্যে জার্মান গোয়েন্দাপ্রধানের এই সতর্কতা সামনে এলো। একই সময়ে জার্মানি ইউক্রেনকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য বলেছেন, রাশিয়ার ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে হামলার উদ্দেশ্য নেই। তাঁর দাবি, রাশিয়া কারও বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করছে না এবং আগ্রাসনের শিকার হলে কেবল প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মান গোয়েন্দাপ্রধানের সতর্কতা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নাশকতা, সাইবার হামলা ও ড্রোন তৎপরতার মতো হাইব্রিড কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সূত্র: রয়টার্স ও জার্মান সংবাদমাধ্যম।