প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ঘটনা চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দও শোনা যায়। পরে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে এলাকা ছেড়ে যায় বলে জানা গেছে।
নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী জানান, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে সেখানে আসে। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং গুলি করতে করতে তারা হাউজিং এলাকায় প্রবেশ করে বলে তাঁর দাবি। প্রথমে প্রবেশমুখের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে লুটপাট করা হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এরপর হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসেও হামলা এবং নির্মাণশ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার পর স্টুডিওটির ভেতরে চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশন, বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল কাচের টুকরা ও ভাঙা সামগ্রী।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম ও মুন্না।
ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের ফুটেজ ও শুটিংয়ের বিভিন্ন উপকরণ ছিল। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।