নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে শুরু হওয়া এ বিপর্যয়ে সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকাজও ব্যাহত হয়েছে। তবে এ বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিল। এ ছাড়া রাজধানীর মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। একই সময়ে চট্টগ্রামের একাংশেও বিদ্যুৎ ছিল না।
হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকেও।
তবে বিপর্যয়ের কারণে ঠিক কতসংখ্যক গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যক্রমেও। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষা করা হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় বিচারকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ওই দিন আর ট্রাইব্যুনাল না বসার সিদ্ধান্ত হয়।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এর আগে কখনো ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল কি না, তা তাঁর মনে পড়ছে না।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে কখন নাগাদ সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক ছিল।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের দিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতির সঙ্গে আকস্মিক বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তাৎক্ষণিকভাবে বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনার ক্ষেত্রে এমন কোনো ত্রুটি দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।
বাংলাদেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবারের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছিল।
কোনো কারিগরি ত্রুটি, গ্রিডের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।
সংবাদের বিভাগ: জাতীয় | বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো