রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলাটি দায়েরের ১৯ দিনের মাথায় এবং বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
রোববার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দুই আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ সোহেল রানার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটন ও তা আড়াল করার ক্ষেত্রে স্বপ্না আক্তারের সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, স্বামীকে অপরাধ থেকে বিরত রাখার কোনো চেষ্টা না করে স্বপ্না বরং তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। অপরাধের পর সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা এবং মরদেহ গুমের চেষ্টায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে। এ কারণে আইন অনুযায়ী উভয় আসামিই সমানভাবে দায়ী এবং সর্বোচ্চ শাস্তির উপযুক্ত।
আদালত বলেন, এ ধরনের অপরাধ শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, পুরো সমাজের বিরুদ্ধে। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য এমন অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন রামিসার বাবা। তবে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি জানান।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে নয়টার মধ্যে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে বেলা ১১টার কিছু সময় পর তাঁদের আদালতে তোলা হয়।
গত ১৯ মে পল্লবীর নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। ঘটনাটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দেয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।
ঘটনার দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন নিহত শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। সেই মামলার রায় ঘোষণা হলো ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায়।