নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকায় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাঁদের ভোটগ্রহণের জন্য ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ মোট পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করে।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার ভোটাররা তাঁদের পরবর্তী জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৫ হাজার ৩০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটারদের উপস্থিতি, ভোটগ্রহণের পরিবেশ এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এই উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী জয়ী হন, তা জানতে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, জাগো নিউজ ও চ্যানেল আই অনলাইনের ২৯ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন।