1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsadik1@gmail.com : Saimum Sadik : Saimum Sadik
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ জন দেখেছেন
  •  মতামত | অর্থনীতি | জ্বালানি। আন্তর্জাতিক 

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব নৌপথে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও শিল্প উৎপাদনে।

প্রথম আলোর মতামত বিভাগে প্রকাশিত মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীর এক কলামে এসব ঝুঁকি তুলে ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান, আমদানির উৎস ও পরিবহনপথের বৈচিত্র্য এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজ্বালানির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নৌপথ?

মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগপথ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কলামে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাব আল-মানদেব প্রণালিও বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে এ দুই নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য—দুটিই চাপে পড়তে পারে।

বিশেষ করে সামুদ্রিক হামলা, জাহাজ চলাচলে বাধা এবং যুদ্ধঝুঁকির কারণে পরিবহন ও বিমা ব্যয় বেড়ে গেলে আমদানিকারক দেশগুলোর ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পণ্য উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়বে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে।

জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ বেড়ে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাই জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু আমদানি বা সরবরাহের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিল্পায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

বিকল্প সরবরাহব্যবস্থায় সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা

কলামে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনকে বিকল্প জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে পাইপলাইনের বাস্তব পরিবহনক্ষমতা, ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর ওপর। সংকটের সময়ে এমন বিকল্প পথ সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। শুধু একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করলেই হবে না; বিকল্প পরিবহনপথ, পর্যাপ্ত মজুতক্ষমতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশের নিজস্ব গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কলামে। নতুন কূপ খনন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে অনুসন্ধানের ফলাফল, নতুন কূপের উৎপাদনক্ষমতা, বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর। পরিকল্পনা ঘোষণার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং উৎপাদিত গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় শিল্পের চাহিদা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আমদানি ব্যয় এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার জন্য কার্যকর আর্থিক প্রস্তুতিও প্রয়োজন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, আধুনিক বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির ব্যবহার এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে শুধু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তি, উন্নত গ্রিড ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতাও বজায় রাখতে হবে, যাতে জ্বালানি রূপান্তরের সময়ে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ঘাটতি তৈরি না হয়।

শিল্পকারখানায় জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার, বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলেও আমদানিনির্ভরতার চাপ কমানো সম্ভব।

ঢাকা-রিয়াদ সহযোগিতার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা কেবল তেল আমদানিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি, জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পর্যন্ত বিস্তৃত করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও দুই দেশের স্বার্থের মিল রয়েছে। তবে কূটনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, আঞ্চলিক সমন্বয় এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

জ্বালানি নিরাপত্তায় এখনই প্রস্তুতি জরুরি

হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে বহিরাগত সংকটের মুখে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

এ ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশীয় জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান, পর্যাপ্ত মজুত ও বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে জ্বালানির অপচয় কমানো ও শিল্প খাতে দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কখন কমবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তাই সংকট তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম প্রস্তুতি, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

সূত্র: প্রথম আলো, মতামত বিভাগ। মূল কলাম: বিশ্বজ্বালানির দুই প্রবেশদ্বারে অস্থিরতা, বাংলাদেশকে যা করতে হবে লেখক: মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )