1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsadik1@gmail.com : Saimum Sadik : Saimum Sadik
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাইকে অভিনন্দন জানালেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চোটে বার্সেলোনার পরের দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না রাফিনহা চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘খেলাধুলা’ বই, নতুন শিক্ষাবর্ষে চালু সুন্দরবনে বনদস্যু আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টি ও বজ্রবাতের সম্ভাবনা, তাপমাত্রা বাড়তে পারে মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা, দুর্গাপূজার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সারা দেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ের অপেক্ষা ব্যাংক খাতের ক্ষতি পোষাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন

সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফের সংকোচন, পিএমআই নেমে ৪৮.৬

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছেন

সংবাদ পোস্ট | অর্থনীতি

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও দুর্বলতার চিত্র দেখা গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৪৮ দশমিক ৬-এ নেমেছে। উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—এই তিন খাতের কার্যক্রমে সংকোচন সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। তবে কৃষি খাত টানা ১৩ মাস ধরে সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পিএমআই প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি)।

কোন অবস্থায় আছে পিএমআই সূচক

পিএমআই হলো এমন একটি সূচক, যার মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ক্রয়াদেশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, কাঁচামাল কেনা এবং মজুতের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বোঝার চেষ্টা করা হয়। সূচকের মান ৫০-এর বেশি হলে সাধারণত সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আগস্টে বাংলাদেশের সামগ্রিক পিএমআই ছিল ৪৯ দশমিক ৯। সেপ্টেম্বরে তা কমে ৪৮ দশমিক ৬ হওয়ায় বেসরকারি খাতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট মাসে ব্যবসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে প্রবৃদ্ধির বদলে সংকোচনের প্রবণতা দেখা গেছে।

উৎপাদন খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা

সেপ্টেম্বরে উৎপাদন খাতের পিএমআই ২ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমে ৪৪ দশমিক ৮-এ দাঁড়িয়েছে। চারটি প্রধান খাতের মধ্যে উৎপাদন খাতেই সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা দেখা গেছে।

এ খাতে নতুন ক্রয়াদেশ, রপ্তানির ক্রয়াদেশ, উৎপাদন, কাঁচামালের মজুত, তৈরি পণ্যের মজুত এবং আমদানির বিভিন্ন সূচকে সংকোচন হয়েছে। এর অর্থ, অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন অর্ডার ও উৎপাদন কার্যক্রমের গতি আগের তুলনায় দুর্বল ছিল।

উৎপাদন খাতের এই পরিস্থিতি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা, পণ্য সরবরাহ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একটি মাসের সূচক দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবণতা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

নির্মাণ ও সেবা খাতেও চাপ

নির্মাণ খাতের পিএমআই আগস্টের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে ৪৮ দশমিক ৫ হয়েছে। আগস্টে সম্প্রসারণের অবস্থায় থাকলেও সেপ্টেম্বরে এ খাত আবার সংকোচনে ফিরেছে। নতুন ব্যবসা ও নির্মাণ কার্যক্রমের গতি কমেছে, যদিও কর্মসংস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, সেবা খাতের পিএমআই ০ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে ৪৯-এ নেমেছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাস সেবা খাত সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। নতুন ব্যবসা ও সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও দুর্বলতা দেখা গেছে।

নির্মাণ ও সেবা খাতের এমন পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়। তবে খাতভেদে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন হতে পারে।

একমাত্র সম্প্রসারণে কৃষি, তবে গতি কমেছে

উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতে সংকোচনের বিপরীতে কৃষি খাত সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। সেপ্টেম্বরে কৃষির পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫৫ দশমিক ২ হয়েছে। তারপরও টানা ১৩ মাস ধরে এ খাত সম্প্রসারণের অবস্থায় রয়েছে।

তবে কৃষি খাতে নতুন ব্যবসা, সামগ্রিক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ফলে কৃষি খাত অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীলতা দিলেও এর মধ্যেও ব্যয় ও কার্যক্রমের চাপ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ব্যয় ও জ্বালানি সংকট

পিএমআই জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা কয়েকটি বিষয়কে তাঁদের কার্যক্রমের প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার দুর্বলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং ব্যাংকঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতা।

ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে গেলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়ে। একই সময়ে ক্রেতাদের চাহিদা দুর্বল থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা পণ্যের দামে যুক্ত করতে পারে না। এতে মুনাফা, নতুন বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

জরিপে কিছু প্রতিষ্ঠান অবশ্য সামনের মাসগুলোতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে। নিশ্চিত ক্রয়াদেশ, নির্ভরযোগ্য ক্রেতা এবং শীতকালীন মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাকে তারা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছে।

অর্থনীতির গতি ফেরাতে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের দুর্বলতা দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে কৃষির ধারাবাহিক সম্প্রসারণ কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের গতি ফেরাতে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি চাহিদা বাড়ানো, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, অর্থায়ন সহজ করা এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানো গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

  1. সেপ্টেম্বরের পিএমআই সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ওপর চাপের ইঙ্গিত দিলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে বাজারের চাহিদা, জ্বালানি সরবরাহ, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ এবং ব্যবসার ব্যয় কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে তার ওপর। আগামী মাসগুলোর সূচকই দেখাবে এই দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, নাকি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার সম্প্রসারণের দিকে ফিরতে শুরু করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )