যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে শিশুদের যৌন নিপীড়নের দায়ে শাহ মাসুকুর রশিদ নামের এক বাংলাদেশি ইমামকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি চেলটেনহামের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন এবং শিশুদের কোরআন শিক্ষাও দিতেন।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী শাহ মাসুকুর রশিদ ওই এলাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিচিত মুখ ছিলেন। গত ৪ জুন গ্লুচেস্টার ক্রাউন কোর্ট এক শিশুকন্যার ওপর দুটি এবং আরেক শিশুকন্যার ওপর চারটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যমতে, অপরাধগুলো সংঘটিত হয় ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে। সে সময় রশিদের বয়স ছিল ৩৭ বছর।
মামলার শুনানিতে বলা হয়, দুই শিশুকন্যাকে রশিদ সম্পর্কে ‘ক্রিপি’ বা অস্বস্তিকর মন্তব্য করতে শোনার পর বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, কোরআন শিক্ষার সময় রশিদ তাদের পোশাকের ওপর ও নিচে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বেচ্ছাসেবী কোরআন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তিনি শিশুদের পরিবারগুলোর আস্থা অর্জন করেন। সেই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভুক্তভোগীদের নিজ নিজ বাসায় যৌন নিপীড়ন চালান।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এলিজাবেথ রাশটন বলেন, “রশিদ তার কমিউনিটির মানুষের আস্থার অপব্যবহার করেছেন। ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কাজ করলে শিশুদের কাছে সহজে পৌঁছানো যাবে—এ বিষয়টি তিনি জানতেন। সেই সুযোগই তিনি অপরাধ সংঘটনের জন্য ব্যবহার করেছেন।”
তিনি বলেন, “এই রায় স্পষ্ট বার্তা দেবে যে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।”
এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কমিউনিটি-পরিচালিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ধর্মীয় নেতারা শিশুদের ক্ষেত্রে ‘স্পর্শহীন নীতি’ কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং শিশু সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লন্ডনের South Woodford Mosque–এর ইমাম ও খতিব Maulana Nazmul Haque বলেন, ব্রিটেনে ইমাম হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকেই তাকে শিশুদের সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “পড়াশোনার উন্নতি বা শৃঙ্খলার স্বার্থেও শিশুদের ধমক দেওয়া, ভয় দেখানো কিংবা শরীরে স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি স্নেহ বা আবেগের বশবর্তী হয়েও শিশুদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ নীতি সবার মেনে চলা উচিত।”
তার ভাষ্য, “এই মামলার গতিপ্রকৃতি যুক্তরাজ্যের মুসলিম কমিউনিটি-পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা।”