রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সভাপতিত্ব করেন।
প্রকল্পের বাধা দ্রুত দূর করার নির্দেশ
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে যৌথভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে প্রকল্পটি শেষ করার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রায় ৮৮.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক
প্রস্তাবিত ইনার সার্কুলার রিং রোডের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সড়কটি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাইরে দিয়ে একটি বৃত্তাকার সংযোগ তৈরি করবে।
প্রস্তাবিত রুটের মধ্যে টার্মুখ ব্রিজ, ধৌর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বসিলা, হাজারীবাগ, সদরঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া, শিমরাইল ও ডেমরা রয়েছে। এর আরেকটি অংশ পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রায়েরবাজার–লালবাগ অংশের কাজ চলছে
প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে লালবাগের লোহারপুল পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে। এই অংশের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা এবং এর প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া লোহারপুল থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ চলছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (DTCA) এ অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সেটি যাচাই করছে।
যানজট কমানোর প্রত্যাশা
ইনার সার্কুলার রিং রোড পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে শহরের কেন্দ্রীয় অংশ এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ বাড়বে।
ফলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট কমানো এবং সামগ্রিক সড়ক যোগাযোগ আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সরকার এখন প্রকল্পের বাধা দূর করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।