নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আসছে বড় সুখবর। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বেতনও পাওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারি হিসাব ব্যবস্থার iBAS++-এর পে-ফিক্সেশন মডিউল ব্যবহার করা হচ্ছে।
কীভাবে হিসাব হবে বকেয়া?
নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে জুলাই থেকে নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ভিত্তিতে বকেয়া হিসাব করা হবে।
তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্য অনুযায়ী বকেয়া নির্ধারণ করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোয় কত বাড়ছে?
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা।
নতুন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর না হয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপ কার্যকর হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
কারা অক্টোবরেই পাবেন, কারা অপেক্ষায়?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে নতুন কাঠামোর বেতন ও প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে আরও সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
পে-ফিক্সেশনে যা লাগবে
পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের তথ্য রয়েছে।
এ ছাড়া আগে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় অফিস আদেশ যাচাই করতে হবে।
বাড়তি ব্যয়ের জন্য বড় বরাদ্দ
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। চলতি অর্থবছরে বেতন বৃদ্ধির প্রথম দুই ধাপের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে।
অন্যদিকে নতুন কাঠামোর অন্যান্য ভাতা পুরোপুরি নতুন হারে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে বড় পরিবর্তন আসছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।