1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsadik1@gmail.com : Saimum Sadik : Saimum Sadik
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ের অপেক্ষা ব্যাংক খাতের ক্ষতি পোষাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন মেসির বিদায়ে আবেগঘন বার্তা রোনালদোর, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে জানালেন শ্রদ্ধা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে দুই ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা সড়ক পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধের আহ্বান রিজভীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও যাচাই না করে শেয়ার নয় তানজিদের ঝোড়ো ৮৩ রানের পর ধস, প্রথম দিনে ৩১৭ রানে ৮ উইকেট হারাল বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে নিজস্ব এআই অবকাঠামো চালুর পরিকল্পনা বাংলাদেশের, গুরুত্ব পাবে বাংলা ভাষার প্রযুক্তি গুজবনির্ভর শেয়ার লেনদেন ঠেকাতে নতুন বিধিমালা করছে বিএসইসি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

কিশোরগঞ্জের এক গ্রামে পাঁচ শিশু ‘বিক্রি’র অভিযোগ

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩০ জন দেখেছেন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে গত ছয় বছরে পাঁচ শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এর মধ্যে চারটি ঘটনা ঘটেছে গত দুই বছরে। একই দম্পতির দুই শিশুও এই তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ।

তবে অভিযুক্ত দুই বাবা দাবি করেছেন, তাঁরা সন্তানদের বিক্রি করেননি; বরং অন্য পরিবারের কাছে দত্তক দিয়েছেন এবং কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি। অন্যদিকে অন্তত তিন শিশুর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত নন। সর্বশেষ একটি শিশুকে বিক্রির অভিযোগ থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত গড়ায়।

নবজাতক জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিখোঁজ

গ্রামের ফারজানা বেগম গত ২ সেপ্টেম্বর একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। তাঁর স্বামী অটোরিকশাচালক জাকির মিয়া অভিযোগ করেন, জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রী, স্বজনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

জাকিরের দাবি, তিনি সন্তানের জন্মের বিষয়টি জানলেও পরে শিশুটিকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা জানতে পারেননি। তবে ফারজানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিশুটিকে তাঁর স্বামীই দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত।

গ্রামের ফারজানা বেগম গত ২ সেপ্টেম্বর একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি শিশুটিকে বিক্রি করে দেন বলে ৬ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী অটোরিকশাচালক জাকির মিয়া।

দুজনের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—শিশুটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নন। পরে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, জাকির মিয়া তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।

মাদকাসক্তি ও দারিদ্র্যের কথা বলছেন স্থানীয়রা

গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে শিশু হারিয়ে যাওয়া বা বিক্রির অভিযোগের পেছনে মাদকাসক্তি ও দারিদ্র্যের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবহার বেড়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারাও চরপুক্ষিয়ায় মাদকের সমস্যা থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁদের মতে, দারিদ্র্য ও অসচেতনতাও এ ধরনের ঘটনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

আরও কয়েকটি পরিবার নিয়ে অভিযোগ

‘বল জাকির’ নামে পরিচিত আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর আগে নিজের তৃতীয় সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, সন্তানকে দত্তক দেওয়া হয়েছিল এবং কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। কিন্তু শিশুটিকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনিও স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

এ ছাড়া সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুই সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর তৃতীয় স্ত্রী সোহেনা বেগমের সন্তান আলহাতকে প্রায় ছয় মাস আগে অন্যের কাছে দেওয়া হয়। সাদ্দামের মা জানিয়েছেন, নাতির বর্তমান অবস্থান তিনি জানেন না।

আরেক ঘটনায় আসাদ ফকির ও তাঁর স্ত্রী সোমা আক্তারের নবজাতককে প্রায় ১০ মাস আগে দত্তক দেওয়ার কথা জানা গেছে। আসাদ দাবি করেছেন, শিশুটিকে আত্মীয়ের মাধ্যমে একটি প্রবাসী পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়নি।

সাদ্দামের তৃতীয় স্ত্রী সোহেনা বেগমের তিন সন্তান। প্রতিবেশীরা বলেন, এই দম্পতি প্রায় ছয় মাস আগে তাঁদের নবজাতক ছেলে আলহাতকে বিক্রি করেছেন।

তদন্ত করছে প্রশাসন

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আফরোজ জানিয়েছেন, শিশু বিক্রির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামও বলেছেন, অভিভাবকেরা চাইলে শিশুদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

কটিয়াদী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চরপুক্ষিয়ায় মাদকের টাকার জন্য শিশু বিক্রির অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। তবে দারিদ্র্য ও অসচেতনতাকেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ সত্য কি না এবং শিশুদের প্রকৃত অবস্থান কোথায়—তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )