অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি না পাওয়ার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর খান অবসর-পূর্ব ছুটি (পিআরএল) এবং স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও পুলিশ অঙ্গনে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ সদর দপ্তর।
বৃহস্পতিবার পাঁচজন ডিআইজিকে অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় আলি আকবর খানের নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই তিনি পিআরএলের আবেদন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
গত ১ জুন আলি আকবর খানকে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একাধিক সূত্রের দাবি, তাকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে সিআইডির প্রধান করার একটি প্রস্তাব প্রশাসনিক পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পদোন্নতি হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো আবেদনে আলি আকবর খান উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হন। পরে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল চাকরিচ্যুত হন। প্রায় ১৬ বছর কর্মজীবনের বাইরে থাকার পর ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি পুনর্বহাল হন।
আবেদনে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে চাকরিতে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এ জন্য তিনি আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিজের দীর্ঘ চাকরিজীবনের কথা উল্লেখ করে আলি আকবর খান বলেন, সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও সর্বশেষ পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে তার নাম না থাকায় তিনি মনে করছেন, কোনো জানা-অজানা কারণে তিনি আবারও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
এ অবস্থায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী আগামী ২ জুলাই থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং একই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের আবেদন করেন তিনি।
এদিকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আলি আকবর খানের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে আলি আকবর খানের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কি না কিংবা তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি।