প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং ‘নদীতে ফেলে দেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম মহসিন আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী। ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত, হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত না থেকে উল্টো চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে অভিযুক্ত মহসিন জোরপূর্বক ভুক্তভোগী ছাত্রীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী আবারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত মহসিন একটি ছুরি বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং নিজের কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে মেসের দিকে নিয়ে যেতে সম্মত হন। তবে পথে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও তাকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় কান্নাকাটির পর তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ছাত্র মোবাইল ফোনে কল করে আত্মহত্যার কথা বলেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের এক সহযোগী ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। সোমবার (আগামীকাল) দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’