সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কোর কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনা সদস্যদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের মাঠ থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথম ধাপে দূরবর্তী জেলা থেকে প্রত্যাহার করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলা থেকেও সেনা সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া জুন মাসের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার কারণে তাঁদের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে।
গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মাঠে থাকে। পরে ধাপে ধাপে কিছু সদস্যকে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় আবারও পূর্ণ মাত্রায় মাঠে রাখা হয়।
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা আসে। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। পূর্ববর্তী সময়ে দেওয়া কিছু লাইসেন্স পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের নিরাপত্তার জন্য গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাকের বিদ্যমান কাঠামোই বহাল থাকবে।
বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় রেখে।