নিজস্ব প্রতিবেদক : থানায় দায়ের করা অভিযোগ তুলে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নারীর মৃত্যু রহস্য ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে রংপুরের তারাগঞ্জে। এ বিষয়ে নিহতের বাবার দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তারাগঞ্জ থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের হলেও আসামীরা রয়েছে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তারাগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত এজাহার ও নথিভুক্ত মামলা সূত্রে জানা যায়, তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের হাড়িয়ারকুঠি নদীরপাড় গ্রামের মোঃ রাজু মিয়ার স্ত্রী ও ৩ সন্তানের জননী সোনালী বেগম (৪০) তারাগঞ্জ থানায় কিছুদিন আগে হাড়িয়ারকুঠি মন্ডলপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেনের পুত্র মোঃ রোস্তম আলীর (৩০) বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগের পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রামের ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি আলোচনা করে উভয়ের মধ্যে মিমাংসা করে দেন। মিমাংসা হওয়ার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রতিবেশী মৃত আকবর হোসেনের পুত্র আব্দুল কাদের (৩৬), মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র আব্দুল মান্নান (৪২) ও হাড়িয়ারকুঠি পাতাইপাড়া গ্রামের মৃত দারকা শাহর পুত্র কেচু শাহ্ (৪৫) সহ তারাগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে সোনালী তার দায়েরকৃত অভিযোগটি তুলে নেন। অভিযোগ তুলে নিয়ে সোনালী তার প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের মটরসাইকেলে বাড়িতে ফেরার জন্য রওয়ানা দেন।
নিহতের বাবা আব্দুল কাদেরের দেওয়া এজাহার সূত্রে, মটরসাইকেল চালক সোনালীর প্রতিবেশী কাদের উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা মৌজার বেলতলী থেকে বুড়িরহাট যাওয়ার পথে মোখলেছারের ধানের মিল ও ওয়ার্কশপের সামনে পৌঁছলে কাদেরের নিয়ন্ত্রণহীন মটর সাইকেল থেকে সোনালী ছিটকে পড়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এজাহারে আরো বলা হয়েছে, সোনালী মটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়লে তার মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় ও রক্তাক্ত হয়ে যায়।
এ অবস্থা দেখে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ভ্যানযোগে সোনালীকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেরদিন দিবাগত রাত ১১টা ৪১ মিনিটে সোনালীর মৃত্যু হয়। এদিকে ঘটনার দিন স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত সোনালীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর সুযোগ নিয়ে চালক আব্দুল কাদের মটরসাইকেল নিয়ে দ্রুতস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। তবে এই রিপোর্ট লেখার আগে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে ও এজাহারে উল্লেখিত প্রথম স্বাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর জয়বাংলা হাটের মৃত ভইল্লা মামুনের পুত্র মুক্তার হোসেনের (৩৫) সাথে কথা বলে জানা যায়, সোনালীকে মেডিকেল পাঠানোর সময় চালক আব্দুল কাদেরসহ অপর মটর সাইকেলে থাকা আরো দুজন সোনালীকে নিয়ে মেডিকেল যায়। তবে একই নিয়ন্ত্রণহোন মটর সাইকেলে থেকে সোনালী পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত ও পরে মৃত্যু হলেও চালক কিভাবে অক্ষত থাকলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। এমনকি প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তার হোসেনও এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে নিহতের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহতের স্বামী রাজু মিয়া সহ ১৭ বছর বয়সী ছেলে ও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। তার ৩ বছর বয়সী মেয়ে সর্বত্রই খুজেঁ ফিরছে তার মাকে।
এদিকে এজাহার রুজুকারী তারাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব নিয়ে সড়ক পরিবহন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করেন।
তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বাদীর এজাহার সূত্রে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। রমেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে লাশ হাতে পেয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।