নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ অসম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে এ প্রক্রিয়া শুরু করতে আওয়ামী লীগকেই নিজেদের দায় স্বীকার করে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের অনেক মানুষ এখনো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন এবং তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়; বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে এর জন্য রিকনসিলিয়েশনের মৌলিক ভিত্তি আগে নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্য উপদেষ্টার মতে, কোনো দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে পুনর্মিলনের আগে তাদের সংঘটিত অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকা জরুরি। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের উদাহরণও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শুধু অপরাধ স্বীকার করলেই ফৌজদারি দায় শেষ হয়ে যায় না। অপরাধের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে দায় স্বীকার বা অনুতাপের ইতিবাচক অবস্থান দেখা যায়নি। বরং বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারকে দোষারোপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে রিকনসিলিয়েশনের আলোচনা শুরু করা কঠিন বলেও জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি মাঝখান থেকে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিতে চান, তাহলে তাঁদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক শর্তগুলো নিশ্চিত করা গেলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
সংবাদ পোস্ট | ঢাকা