1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsadik1@gmail.com : Saimum Sadik : Saimum Sadik
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১৫ বছর পর আবার একসঙ্গে শাহরুখ-কারিনা, ‘কিং’-এ থাকছে বিশেষ চমক ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ মৃত্যু, চলতি বছরে সর্বোচ্চ হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১৩৪ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়, তবে দায় স্বীকার করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ২০ পয়সা দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার ১৬৮ পূজামণ্ডপে ডিএসসিসির অনুদান একই স্থানে পরপর দুই দুর্ঘটনা, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিহত ১ চট্টগ্রামের ৮ গুদামে ১,৮০০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড ‘ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক পরেছি, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’—ভিডিও ভাইরাল, এএসআই প্রত্যাহার ইমো হ্যাকিংয়ের ‘রাজধানী’ বিলমাড়িয়ায় হ্যাকার সম্রাট গ্রেপ্তার

উদ্বোধনের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ, সাজানো হচ্ছে বগি

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: শনিবার, ১৭ জুন, ২০২৩
  • ১৩৭ জন দেখেছেন
আগামী সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পরই এই রুটে আধুনিক উচ্চগতির ট্রেন চলাচল করবে। বাণিজ্যিক ট্রেন চালু হবে আরও কয়েক মাস পর। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০৩ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন একেবারেই শেষ পর্যায়ে। পাহাড় ঘেরা এ পথে অত্যাধুনিক ট্যুরিস্ট ট্রেন চলবে। এর মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক উচ্চগতির মিটারগেজ কোচ দিয়ে নতুন ট্রেনের বগিগুলো সাজানো হচ্ছে। ১৪৭টি মিটারগেজ কোচের ট্রায়াল রান চলছে চট্টগ্রাম–ঢাকা রেলপথে। এরমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত নতুন বিলাসবহুল মিটারগেজ কোচের কম্পোজিশনে তৈরি নতুন ট্রেন যাত্রী নিয়ে যাবে কক্সবাজার। সেই আমদানিকৃত নতুন মিটারগেজ কোচের কাজ চলছে পুরোদমে। তবে কোচ সংকট ও ইঞ্জিন স্বল্পতার কারণে চাইলেও অতিরিক্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হবে না।
রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের জন্য চট্টগ্রামের দোহাজারী পর্যন্ত আগে থেকেই রেললাইন আছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, আগস্টের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে পারবো। সেপ্টেম্বর ফিনিশিং ওয়ার্কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে আমরা ট্রায়াল রান উদ্বোধন করতে পারব।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ থেকে জানা গেছে, শুরুতেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। ৪ থেকে ৫ জোড়া ট্রেন প্রথম পর্যায়ে চালানো হবে। চট্টগ্রাম থেকে সোয়া দু’ঘণ্টায় ট্রেন পৌঁছাবে কক্সবাজারে।
সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার সদর থেকে সাত কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরে ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকায় ২৯ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলস্টেশন। স্টেশনটিকে সৈকতের ঝিনুকের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। স্টেশন ভবনটির আয়তন এক লাখ ৮২ হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ভবনটির বিভিন্ন অংশে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান আছে। নির্মাণাধীন আইকনিক ভবন ঘেঁষে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থের তিনটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০০ কিলোমিটার রেলপথে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগাঁও, রামু, কক্সবাজার সদরসহ স্টেশন থাকছে আটটি। এ জন্য সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি বড় সেতু। এ ছাড়াও রেলপথে তৈরি হয়েছে ৪৩টি ছোট সেতু, ২০১টি কালভার্ট ও ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং। সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া এলাকায় তৈরি হচ্ছে একটি ফ্লাইওভার, রামু ও কক্সবাজার এলাকায় দুটি হাইওয়ে ক্রসিং। হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর চলাচলে ৫০ মিটারের একটি ওভারপাস ও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে।
পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে নির্মিতব্য দেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। মুক্তাসহ ঝিনুকের আকৃতিতে ছয় তলা এই ভবনের নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এখন অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। ভবনের চারিদিকে গ্লাস, ছাদের ওপর স্টিলের ক্যানোফি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফায়ার ফাইটিং, স্যানিটারি আর বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বসালেই ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে সমুদ্রনগরের প্রথম এই রেলওয়ে স্টেশন। বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে চলছে এই স্টেশনের কাজ।
জানা গেছে, কক্সবাজার রুটে ১৫-১৬টি বগি নিয়ে চলবে ট্রেন। ট্রেনগুলোতে পাওয়ার কার কোচ, কেবিন, এসি চেয়ার, এসি বার্থ, শোভন চেয়ার, গার্ড র‌্যাক, ব্যুফে কার সাজানো হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত এই রেলপথের ৮৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। কক্সবাজারে ছয় তলাবিশিষ্ট রেলস্টেশনের কাজের অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৮৬ শতাংশ। অবশিষ্ট ১৪ শতাংশ কাজ শেষ করে সেপ্টেম্বর নাগাদ রেল যোগাযোগ চালু করা সম্ভব হবে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, রেল চালু হলে পর্যটক যাতায়াত সহজ হবার পাশাপাশি স্বল্প সময়ে-কম খরচে কৃষিপণ্য, মাছ, লবণ পরিবহন করা যাবে। এতে কক্সবাজারের পর্যটনসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণে পর্যটন নগরীর সাথে রাজধানীসহ সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি বহুদিনের। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দের উন্নিত করার পাশাপাশি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের দাবী দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেয়। গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খোকা আরও বলেন, ২০২৩ সাল শেষ হবার আগেই কক্সবাজারে রেল আসার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে প্রকল্প ও রেল মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে রেলে চড়ে সহজে কক্সবাজারে আসবেন পর্যটকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। তেমনি সহজভাবে দেশের সব প্রান্তে যাবেন কক্সবাজারবাসীও। সহজ হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা নেয়া। এতে বাড়বে কক্সবাজারে পর্যটক স্রোত। পর্যবেক্ষদের মতে, রেলপথ সচল হলে সবদিক দিয়ে ঘুরে যাবে কক্সবাজার অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাকা।
দোহাজারী–কক্সবাজার রেল লাইনের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করছি সব কিছু ঠিক থাকলে আগস্টের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ করতে পারবো। এই ২৫ কিলোমিটারের মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু স্লিপার আর রেল বিট বসবে। আগস্ট–সেপ্টেম্বর এই দুই মাসে ফিনিশিং ওয়ার্কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে আমরা ট্রায়ালরান উদ্বোধন করতে পারবো বলে। প্রথমত আমরা এক জোড়া ট্রেন দিয়ে হলেও চালু করে দেবো। সব মিলিয়ে রেললাইন পুরোপুরি চালু হলে পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। ফলে সেপ্টেম্বরে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি.এম আলমগীর বলেন, এটি কক্সবাজারবাসীর মতো আমাদের কাছেও স্বপ্নের প্রকল্প। নদী-নালা, খাল-বিল, পাহাড় ঘেঁষে হচ্ছে এ প্রকল্পের কাজ। ২০২৪ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও আমরা চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড দুই ভাগে কাজ করছে। নিখুঁতভাবে দ্রুত কাজ করছি আমরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে। এরপরও কাজ চলছে। একইভাবে সাগরপথে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অন্য দেশ থেকে মালামাল আনতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: শাহীন ইমরান বলেন, কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিত্তি প্রস্তরের প্রায় সাত বছর পর ২০১৮ সালে ডোয়েল গেজ ও সিঙ্গেল ট্র্যাক রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রামু পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমল বলেন, ২০১১ সালে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের সম্মতি না থাকায় আপাতত রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার রেললাইনের কাজ হচ্ছে না।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রেলওয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস চালু করতে চায়। নতুন আসা কোচ দিয়ে ট্রেন সার্ভিস চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্বোধনের পর এক বা একাধিক ট্রেন চালানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে শুরুতে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রেন চালানো সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে ট্যুরিস্ট কার ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণির ট্রেন সার্ভিস বাড়ানো হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )