বেশিরভাগই রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে ডাক্তারি পড়তেন। মণিপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তারা আরও ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে পুলিশি পাহারা দিয়ে প্লেনে আগরতলায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
অন্ধ্র প্রদেশের প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী এই মুহূর্তে মণিপুরে রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য প্লেন ভাড়া করতে কেন্দ্রের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাহায্য চেয়েছে রাজ্য সরকার।
এদিক থেকে তেলেঙ্গানা সরকার একধাপ এগিয়ে। তারা এরই মধ্যে ইম্ফলে বিশেষ প্লেন পাঠিয়ে দিয়েছে। তাদের ছাত্রছাত্রীরাও মণিপুর থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
মেঘালয়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আম্পারিন লিংডো জানিয়েছেন, তাদের রাজ্যের ৬৭ শিক্ষার্থী গত শুক্রবার রাতে গুয়াহাটিতে নেমেছেন। দ্বিতীয় দফায় আরও অনেককে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নাগাল্যান্ড সরকার মণিপুরে বসবাসরত তাদের ৬৭৬ জনকে আসাম রাইফেলসের সাহায্যে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেছে। সিকিমের যারা মণিপুরে পড়াশুনা করতেন, তাদেরও প্রায় সবাই কলকাতা হয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে গেছেন।
দিল্লি এবং মহারাষ্ট্র সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এদিন সকালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাও বলেছেন।
মিজোরামে শরণার্থীর ঢল
মণিপুরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সেখানকার কুকি জনগোষ্ঠীর মানুষেরা দলে দলে পার্শ্ববর্তী মিজোরামের দিকে যেতে শুরু করেন।
মিজো, কুকি ও চিন’রা নিজেদের একই জাতিগোষ্ঠীর অংশ বলে মনে করে এবং ঐতিহাসিকভাবেই তারা একে অন্যের বিপদে প্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে মণিপুরের কুকিরা এবারও মিজোরামে আশ্রয় পাচ্ছেন।
মিজোরাম সরকার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ মে) থেকে রোববার (৭ মে) পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মানুষ মণিপুর থেকে তাদের রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজ্যটির রাজধানী আইজল সংলগ্ন জেলায় আশ্রয় নিয়েছেন ১৫১ জন। এছাড়া আসাম সীমান্তের কাছে কোলাসিব জেলায় আরও ২২৮ জন ও মণিপুর লাগোয়া সাইতুয়ার জেলায় আরও ২১৭ জনকে আশ্রয় দিয়েছে মিজোরাম।