বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | সাইবার নিরাপত্তা | সংবাদপোস্ট
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করা থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার হামলার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই ওয়েবসাইট পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি এবং বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সব পক্ষেরই ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আক্রান্ত সার্ভারে অননুমোদিতভাবে ক্ষতিকর কোড চালানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট পিএইচপিনির্ভর হওয়ায় এ ধরনের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগাতে পারলে সাইবার অপরাধীরা ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ, তথ্য চুরি কিংবা সিস্টেমের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিক্রিয়া দল বিজিডি ই-গভ সার্টও (BGD e-GOV CIRT) এ ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্রান্ত সফটওয়্যার শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আপডেট দ্রুত প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাইবার হামলার ঝুঁকির কারণে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ক্ষতিকর স্প্যাম শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ওয়েবসাইটটির অন্তত দুটি স্থানে স্প্যাম শনাক্ত হয়। পরে ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরা সেগুলো সরিয়ে মেরামতের কাজ করেন। ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ওয়েবসাইটটি আবার চালু করা হয়।
ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সেবা সচল রাখা এবং গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তবে ওয়েবসাইটে ক্ষতিকর স্প্যাম শনাক্ত হওয়ার তথ্য থেকে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা অর্থ চুরি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এআইয়ের সাহায্যে সাইবার অপরাধীরা প্রতারণামূলক বার্তা তৈরি, লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার কাজ দ্রুত করতে পারে। কিছু স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট মানুষের সীমিত তদারকিতে একাধিক ধাপে কাজ করার সক্ষমতাও দেখিয়েছে।
তবে এআইয়ের ব্যবহার মানেই সাইবার হামলা নয়। একই প্রযুক্তি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত, সন্দেহজনক কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করতেও ব্যবহার করা যায়। মূল উদ্বেগ হলো, অপরাধীরা প্রযুক্তিটির সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হালনাগাদ করছে।
সাইবার ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
১. দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু রাখুন: ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন অ্যাকাউন্টে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) ব্যবহার করুন।
২. সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন: ফোন, কম্পিউটার, রাউটার এবং অন্যান্য সংযুক্ত ডিভাইসে নিরাপত্তা আপডেট চালু রাখুন।
৩. প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন: একই পাসওয়ার্ড একাধিক ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সুবিধা থাকলে পাসকি ব্যবহার করতে পারেন।
৪. সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলুন: ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিচিত ব্যক্তির নামে আসা বার্তা যাচাই না করে কোনো লিংকে প্রবেশ বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করবেন না।
৫. ওয়েবসাইট পরিচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও সার্ভারের দুর্বলতা শনাক্ত করে দ্রুত প্যাচ প্রয়োগ, ব্যাকআপ সংরক্ষণ এবং অননুমোদিত প্রবেশের লক্ষণ নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
ডিজিটাল সেবা যত বিস্তৃত হচ্ছে, সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তত বাড়ছে। শুধু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; নিয়মিত হালনাগাদ, শক্তিশালী যাচাইকরণ, পর্যবেক্ষণ এবং ব্যবহারকারীর সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরন আরও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী ও প্রতিষ্ঠান—উভয়কেই সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম—এআই সাইবার হামলা থেকে নিরাপদ থাকার উপায় | বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম—সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট | বিজিডি ই-গভ সার্ট—সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতা