সংবাদ পোস্ট | নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: দেশে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন সংশোধন অথবা নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। চাঁদাবাজির শিকার কেউ ভয় বা অন্য কোনো কারণে মামলা করতে না চাইলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে—এমন বিধান চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজকের পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণীতে সরকারের এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওই কার্যবিবরণী অনুমোদন দেওয়া হয়।
চাঁদাবাজির ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী হুমকি, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না। ফলে অপরাধের তথ্য জানা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভুক্তভোগী মামলা করতে না চাইলে পুলিশকে বাদী করে মামলা করার সুযোগ তৈরির চিন্তা করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচলিত আইনের দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন অথবা নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে; আইন সংশোধন বা নতুন আইন কার্যকর হওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি।
চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারী বা পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করতেও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ক্যামেরায় ধারণ করা অডিও ও ভিডিও রেকর্ড অপরাধ তদন্তে সহায়ক হতে পারে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ও গ্রহণযোগ্যতার শর্ত পূরণ হলে এসব রেকর্ড আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহার করার লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া চাঁদাবাজির মতো অপরাধে তুলনামূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অপরাধবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মো. রেজাউল করিম সোহাগ মনে করেন, চাঁদাবাজি দমনে নতুন আইন সব ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়। তাঁর মতে, বিদ্যমান আইনের আওতাতেই অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব। আইনে কোনো নির্দিষ্ট দুর্বলতা বা ফাঁকফোকর থাকলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
তিনি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর আশঙ্কা, পুলিশকে বাদী করে মামলা করার ব্যবস্থা চালু হলে কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই শুধু নতুন বিধান নয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনগত পরিবর্তন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা—এই তিনটি বিষয় উদ্যোগটির সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান কবে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বক্তব্য।