সংবাদ পোস্ট | নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে দুই লাখের বেশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মোট ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ এবং ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী সদস্য রয়েছেন। ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে।
পূজামণ্ডপের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে তিন শ্রেণিতে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
বাসসের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ হাজার ৯১৪টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে প্রতিটিতে আটজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ১১ হাজার ৭৮১টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৪ হাজার ৪৭০টি সাধারণ মণ্ডপে প্রতিটিতে ছয়জন করে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো মণ্ডপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করাই এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা ও দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং গুজব প্রতিরোধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাহিনী।
দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি পূজামণ্ডপের আয়োজক, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির নিরাপত্তা কার্যক্রম ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। তবে মোতায়েন করা সদস্যের সংখ্যা বা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ব্যবস্থাই একমাত্র বিবেচ্য নয়; বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা, দ্রুত সাড়া এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ১৫ অক্টোবর ২০২৬; আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য।
সম্পাদনা নোট: সদস্যসংখ্যা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিবরণ বাসসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।