নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
সাতক্ষীরা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬: সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ ‘আইস’ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সদর উপজেলার দাঁতভাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজিবি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদকদ্রব্যটি উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমানের নির্দেশনায় ঘোনা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি জানতে পারে, ভারতের দিক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে মাদকের একটি চালান প্রবেশ করতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ঘোনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৬/১৩-এস থেকে প্রায় চার কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দাঁতভাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকায় বিশেষ দল অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পলিথিনের প্যাকেটে রাখা ৫০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা ৫০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইসের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া মূল্যায়ন; উদ্ধার করা মাদকের কোনো বিক্রয় বা লেনদেনের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ক্রিস্টাল মেথ ‘আইস’ একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও শক্তিশালী মাদকদ্রব্য। এর অপব্যবহার মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তপথে এ ধরনের মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি ও মাদকবিরোধী অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে এ চালানের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, কোথা থেকে এটি আনা হচ্ছিল কিংবা কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য পরবর্তী সময়ে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ব্যাটালিয়নের জব্দ মালামাল সংরক্ষণাগারে জমা রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরি করার কথাও জানিয়েছেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক।
সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা এবং সীমান্তপথে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি, টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে এ অভিযানে কাউকে আটক করা না যাওয়ায় চালানটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে কিছু জানানো হয়নি।
সাতক্ষীরায় এই চালান জব্দের ঘটনা সীমান্তপথে মাদক প্রবেশের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও জানা যাবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস),বিজিবির সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; এখন টিভি
সংবাদ পোস্ট | সংবাদে সত্য, তথ্যে নির্ভরতা