নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
কক্সবাজার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে ছয় লাখের বেশি পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা করছেন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা। আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের ছুটিকে সামনে রেখে জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে বেড়েছে আগাম বুকিং। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে আবাসন ও পরিবহনসেবার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কক্সবাজারের আবাসনব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে আগাম বুকিং হয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, ছুটির পাঁচ দিনে প্রতিদিন এক লাখের বেশি পর্যটক আসতে পারেন। তবে ছয় লাখ পর্যটকের সংখ্যা এখনো প্রত্যাশা, নিশ্চিতভাবে আগত পর্যটকের হিসাব নয়।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বাসসকে জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে পাঁচ দিনে ছয় লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন। জেলায় বিভিন্ন শ্রেণির পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠানে আগাম বুকিংয়ের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দিন জানান, তারকা মানের হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং হয়েছে। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়লে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসায় কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রামুতে মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত মেরমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রানা কর্মকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। অন্যদিকে, তারকা মানের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার তারেক আজিজ জানিয়েছেন, তাঁদের হোটেলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।
ছুটির সময় বাড়তি যাত্রী পরিবহনের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কক্সবাজার রুটে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা স্পেশাল’ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। একই দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর নির্ধারিত সূচি রয়েছে।
২৩ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেন সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। একই রাতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে আরেকটি ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টায় পৌঁছানোর কথা। ওই দিন রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল’ চালানোরও সূচি রয়েছে।
ট্রেনের সময়সূচি ও আসনসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের জন্য যাত্রীদের বাংলাদেশ রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান বাসসকে জানান, পর্যটকদের আগমন বাড়তে পারে বিবেচনায় জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ছুটির সময়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে সৈকত ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের চাপ বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল এবং পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন বাড়লে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক দোকান এবং অন্যান্য সেবামূলক ব্যবসায়ও কাজের পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পর্যটকের প্রত্যাশিত সংখ্যা বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে যাতায়াতের সুবিধা, আবাসনসেবা, নিরাপত্তা এবং ছুটির সময়ে পর্যটকদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার ওপর। আগাম বুকিং বেশি থাকায় যাঁরা কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের যাত্রার আগে আবাসন ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে বড় পর্যটকসমাগমের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো—বাড়তি চাপ সামলে পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা।
সংবাদ পোস্ট | সংবাদে সত্য, তথ্যে নির্ভরতা