সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরের তৈরি তিনটি নকশা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সেগুলোর মধ্যে একটি নকশার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে।
রাজধানীর আবদুল গণি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সেখানে জায়গার সীমাবদ্ধতা, ক্রমবর্ধমান দাপ্তরিক চাহিদা এবং আশপাশের এলাকায় যানজটের মতো সমস্যা রয়েছে।
আগারগাঁওয়ে নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স নির্মিত হলে মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য পরিকল্পিত কর্মপরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে নতুন স্থানে সচিবালয় নির্মাণের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহন চলাচল এবং জনসাধারণের যাতায়াতের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সচিবালয় আগারগাঁওয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
এবার নতুন করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দীর্ঘদিনের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন, নির্মাণকাজের সময়সীমা, মোট ব্যয় এবং স্থানান্তরের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রকল্পটি কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
সংবাদ পোস্ট | তথ্যনির্ভর সংবাদে আপনার পাশে।