বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৫ শতাংশের মতো।
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে শিল্প ও সেবা খাত। এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০ দশমিক ৯২ শতাংশ।
শিল্প খাতের মধ্যে উৎপাদন খাত ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ছয় প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ। নির্মাণ খাতও সংকোচন থেকে বেরিয়ে এসে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে
অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক খাত সেবায়ও উন্নতি দেখা গেছে। এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের ২ দশমিক ২৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তবে কৃষি খাতের চিত্র তুলনামূলক দুর্বল। এ সময়ে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ ছিল। ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কৃষির চেয়ে শিল্প ও সেবা খাতই বেশি ভূমিকা রেখেছে
বিবিএসের হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পুরো চার প্রান্তিক মিলিয়ে বাংলাদেশের গড় প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও পুরো বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো খুব শক্তিশালী অবস্থানে ফেরেনি
অর্থনীতিবিদরা অবশ্য এক প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি দেখে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, আগের বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি খুব কম ছিল। তাই তুলনামূলকভাবে এবার প্রবৃদ্ধির হার বেশি দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বেসরকারি খাতে ঋণের ধীরগতি ও জ্বালানি সংকট এখনো অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
তবু উৎপাদন ও সেবা খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিতে কিছুটা গতি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনে এই গতি ধরে রাখতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।