সংবাদ পোস্ট | রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রচারে নেমেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। বাকি তিন প্রার্থীও নির্বাচনী প্রতীক পেয়েছেন।
আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ভোট চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
ধানের শীষ নিয়ে প্রচারে মির্জা ফয়সল আমিন
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান। ভোটারদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ এবং তাঁদের কাছে ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
প্রচারে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে জামায়াতের প্রার্থী
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। তিনিও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন।
নির্বাচনী প্রচারে তিনি সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ে তোলা এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তুলে ধরেন। ভোটের পরিবেশ ও নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য তিন প্রার্থীও পেয়েছেন প্রতীক
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী পেয়েছেন বটগাছ প্রতীক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক পেয়েছেন ডাব প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে সব প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারের সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার চালানোর জন্য তাঁদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
ভোটারদের নিরাপত্তায় বাড়তি প্রস্তুতি
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মাঠে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৯ অক্টোবর ভোট, নজর প্রচারের পরিবেশে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রচারের বাকি দিনগুলোতে প্রার্থীরা কীভাবে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন, সেটিই এখন নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রচারের পরিবেশ এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে এই উপনির্বাচনের চিত্র।