শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার এই একমাত্র টেস্ট। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আফগান বোলারদের চাপে রাখলেও দ্বিতীয় সেশনে ঘুরে দাঁড়ায় প্রতিপক্ষ।
তানজিদ-শাদমানের উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তানজিদ হাসান। তাঁর সঙ্গে অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন শাদমান ইসলাম। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১২৪ রান, যা বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত এনে দেয়।
মাত্র ৭১ বলে ৮৩ রান করেন তানজিদ। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি আফগান বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় শতকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
তবে সেঞ্চুরির আগেই থামতে হয় তাঁকে। আফগান পেসার ইসমত আলমের বলে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ।
অন্যদিকে শাদমান ইসলাম নিজের ইনিংস এগিয়ে নেন ধৈর্যের সঙ্গে। ১১১ বলে ৬৭ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার। দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়ে মধ্যাহ্নবিরতির আগেই ১৩৪ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।
মধ্যাহ্নবিরতির পর আফগানিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানো
প্রথম সেশনে বাংলাদেশের আধিপত্য থাকলেও বিরতির পর বোলিংয়ের ধরন বদলে ফেলে আফগানিস্তান। পেসাররা শর্ট বল ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলতে শুরু করেন। এর ফলও দ্রুত পাওয়া যায়।
শাদমান ৬৭ রানে আউট হলে ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটের ৬০ রানের জুটি। এরপর মুমিনুল হক ৩৯ রান করে বিদায় নেন। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; কোনো রান না করেই তাঁকে ফিরতে হয়।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৯ রান। কিন্তু তিনিও উইকেট হারালে বাংলাদেশের ইনিংসে চাপ আরও বাড়ে। একসময় বড় সংগ্রহের পথে থাকা দলটি পরপর উইকেট হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।
লিটন-মিরাজের ব্যাটে কিছুটা স্বস্তি
মাঝের সারির ব্যাটাররা দ্রুত আউট হওয়ার পর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন আক্রমণ ও রক্ষণ মিলিয়ে দলের রান এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ৫৩ রান করেন।
মিরাজও শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দিনের শেষ ভাগে আবার কিছুটা স্থিতি ফিরে পায়। নিয়মিত উইকেট হারানোর পরও দলকে তিন শতাধিক রানে পৌঁছে দিতে এই জুটি সহায়তা করে।
আফগানিস্তানের হয়ে পেসার মোহাম্মদ সেলিম সাফি তিনটি উইকেট নেন। ইসমত আলম ও ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বোলিংও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করে। নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তান দিনের শেষ দিকে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।
দুর্দান্ত শুরুর পরও ম্যাচে লড়াই জমেছে
দিনের প্রথম ভাগে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে বিরতির পর ব্যাটিংয়ে ধস নামায় সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তবু লিটনের অপরাজিত অর্ধশতক এবং মিরাজের সহায়তায় দল লড়াই করার মতো সংগ্রহ গড়েছে।
আবুধাবির উইকেট পরবর্তী দিনগুলোতে স্পিনারদের সহায়তা করতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বাংলাদেশ একাদশে অতিরিক্ত স্পিনার নাঈম হাসানকে রেখেছে। তাই প্রথম ইনিংসে যতটা সম্ভব বড় সংগ্রহ তোলা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দ্বিতীয় দিনে নজর লিটন-মিরাজের দিকে
প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৪ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান। লিটন দাসের ব্যাটিং এবং বাকি ব্যাটারদের অবদান নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কত দূর পর্যন্ত ইনিংস নিয়ে যেতে পারে।
একদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য সংগ্রহ বাড়ানো, অন্যদিকে আফগানিস্তানের লক্ষ্য দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নেওয়া। প্রথম দিনের নাটকীয় ওঠানামার পর দ্বিতীয় দিনে দুই দলের লড়াই আরও জমে ওঠার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।