খুলনার রূপসায় ছেলে হত্যার দেড় মাসের মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বাবা আক্তার ঢালীকে। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডে পরিবারটিতে নেমে এসেছে গভীর আতঙ্ক। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এবার কোনো মামলা করতে চান না নিহতের স্বজনেরা। তাঁরা পুরো বিষয়টি পুলিশের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা লোকজন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনেরা তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় একই এলাকার শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় জয় ঢালীর মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছিলেন। মামলার কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। স্বজনদের ধারণা, জয় ঢালী হত্যার সঙ্গে আক্তার ঢালী হত্যার যোগসূত্র থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, খুলনায় ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর লোকজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহত আক্তার ঢালীর ভাতিজা লিটু ঢালী বলেন, আগের মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে আসায় তাঁরা আর নতুন করে কোনো ঝামেলায় যেতে চান না। তাঁর ভাষ্য, এবার পুলিশই বিষয়টি দেখুক।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আগের হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে আমরা মনে করছি। তবে এর সঙ্গে আরও কোনো বিষয় আছে কি–না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে বি কোম্পানির সদস্যরা জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
-সরকার ওমর ফারুক, পুলিশ সুপার, খুলনা
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আগের হত্যা মামলার আসামি, জামিনে থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড এবং হত্যার আগে দেওয়া হুমকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আগের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নতুন হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকার ধারণা পাওয়া গেছে। ‘বি কোম্পানি’র সদস্যরা জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ ওই এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
ছেলে জয় ঢালীর হত্যা মামলা নিয়ে আক্তার ঢালীর ওপর চাপ ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম। মামলা তুলে নিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন আক্তার ঢালী।
আমরা কিচ্ছু জানি না, কারা মেরেছে। আমি কিছু বলব না। মাসখানেক আগে ছেলেটা চলে গেল। এবার ওর বাবাও গেল। তোমরাও যারা আছ, তারা এখন কিছুতে কারও নামে কিছু বলবা না। না জানি কী বিপদ হবে।
-নাসিমা বেগম, আক্তার ঢালীর স্ত্রী
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কয়েকজন তাঁকে ডেকে নিয়ে ছেলে হত্যার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

বাড়ির পাশে কাঠের এই বেঞ্চে গতকাল সোমবার বসেছিলেন আক্তার ঢালী
স্বামীর হত্যার পর শোকে ভেঙে পড়েছেন নাসিমা বেগম। ছেলে ও স্বামীকে অল্প সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে পরিবারটির মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজনদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আরও বিপদ ঘটতে পারে।
সংবাদ পোস্ট | খুলনা