বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগের সভাপতি শেখ হাসিনার ৮০ তম জন্মদিন পালনের একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে ভারতের বিভিন্ন সংগঠন। ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার শেখ হাসিনা ৭৯ পেরিয়ে ৮০-তে পা দেবেন।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরে যাবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তার আগে ভারতের এই রাষ্ট্রীয় অতিথির ৮০ তম জন্মদিন পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এদেশের একাধিক সংগঠন। উদ্দেশ্য নির্বিঘ্নে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং সুস্থ দীর্ঘ জীবনের শুভকামনা জ্ঞাপন।
২০২৪ এর ৫ অগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। ভারত সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অতিথি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ভারতের সংসদের সব দল। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে নীতি-আদর্শগত শত মতভেদ থাকলেও শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসাবে মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তে সব দলের সায় আছে। জন্মদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলিতে মূলত রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের কবিতা, গল্প পাঠ ও গান এবং নাচ পরিবেশন করা হবে। দিল্লি ও কলকাতা ছাড়াও ভারতের আরও কয়েকটি বড় শহরে হাসিনার জন্মদিন পালনের উদ্যোগ চলছে।
আলাদা করে নেত্রীর জন্মদিন পালন করবে আওয়ামী লিগ। তবে সেই অনুষ্ঠান হবে মূলত অনলাইন আলোচনার মাধ্যমে। আওয়ামী লিগ নেত্রী সেদিন আরও কিছু জরুরি বার্তা দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে।
ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অন্যতম হল, ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার কলকাতা লাগোয়া সল্টলেকে একটি সরকারি প্রেক্ষাগৃহে প্রথমবার প্রদর্শিত হবে সদ্য নির্মিত সিনেমা ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’। ওই সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ২০২৪-এর জুলাই-অগস্টে বাংলাদেশের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সামনে রেখে কীভাবে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়েছিল।
হাসিনাকে নিয়ে সিনেমা প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রথমসারির নেতা স্বপন দাশগুপ্ত। একদা ভারতের নামজাদা সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত পরিচয় আছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুভাষ সরকার। থাকবেন বিশিষ্ট ভাষাবিদ প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পবিত্র সরকার।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন পবিত্রবাবু। তাঁর সঙ্গেও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সখ্য আছে। হাসিনা সরকারের পতনকে এই শিক্ষাবিদ বাংলাদেশসহ গোটা উপমহাদেশের সংকট বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বারে বারে বলেছেন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বাংলাদেশে ফেরানো অত্যন্ত জরুরি। আর সেজন্য রাজনীতির ময়দানে আওয়ামী লিগের সক্রিয়তাও সমান প্রয়োজন।
২৮ তারিখ সোমবার হাসিনার জন্মদিনে কলকাতার নাগরিক সমাজ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভারতের প্রাক্তন সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক বিধায়ক তথা রাজ্য কংগ্রেসের সহ-সভাপতি দেবপ্রসাদ রায়। প্রায় শেখ হাসিনা সমবয়সি দেবপ্রসাদবাবু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে শরণার্থীদের দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করেন। এপারে মুক্তিবাহিনী লোকজনকে দেখভাল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক প্রচার, ত্রাণ, দান সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
হাসিনার জন্মদিন পালনে ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ধ্রুপদী নৃত্য ও সঙ্গীত অ্যাকাডেমি। সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পদ্মবিভূষণ উপাধি প্রাপ্ত ধ্রুপদী নৃত্য শিল্পী ও পরিচালক উমা শর্মা।
৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে দ্য বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি ভারতের লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা বিশিষ্ট কংগ্রেস নেত্রী মীরা কুমার। হাসিনার জন্মদিন পালনে কলকাতায় আরও তিনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেগুলিতে উপস্থিত থাকবেন বম্বে হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর।
এদিকে, কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপ, আমেরিকা থেকে আসা বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন নাগরিক। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রতিহিংসামূলক পরিবেশের কারণে তাঁরা দেশে ফিরতে পারছেন না। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা ঘোষণা করেন ডিসেম্বরে নেত্রীর সঙ্গে তারাও দেশে ফিরবেন।
সূত্র : দ্যা ওয়্যাল