তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কমিটি তাদের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠক হয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করেছেন। গঠিত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিলে তা নিয়ে আবার আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দীর্ঘমেয়াদি কাজ হলেও সরকার তা দ্রুত এগিয়ে নিতে চায়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও প্রয়োজনীয় তাগিদ দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই মহাপরিকল্পনা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার এটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে চায়। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার প্রতিফলন দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি বাস্তবায়নে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রয়োজন হলে কারিগরি সহায়তা বিদেশ থেকেও নেওয়া হতে পারে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে—এমন দৃশ্যমান অগ্রগতি স্বল্প সময়ের মধ্যেই জনগণ দেখতে পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক অগ্রাধিকার হিসেবে তিস্তা ব্যারেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নদীর পানি সংরক্ষণের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য পৃথক দলও গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই তিস্তা এলাকা পরিদর্শনে যাবে বলেও জানান তিনি।