রংপুরে ডেঙ্গু নিধনে অভিযানের প্রথম দিনেই কয়েকটি নির্মানাধীন ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী দল। অন্যদিকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভাগের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে ৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সোমবার(১০ জুলাই) দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান মৃধার নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন নির্মানাধীন ভবন ও সম্ভাব্য স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের শুরুতেই নগরীর কেরানীপাড়ায় নির্মানাধীন একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি দেখতে পান বিশেষ্জ্ঞ দল। এসময় পরিক্ষা নিরিক্ষা করে সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। লার্ভার উপস্থিতি নিশ্চিতের পরপরই ফোগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংশ করেন সেই বিশেষ্জ্ঞ দল। এসময় পাশে একটি নির্মানাধীন ভবনেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। ভবন মালিকের ব্যবস্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংশ করা হয়। পরে অভিযানের দলটি কয়েকটি নির্মানাধীন ভবনসহ সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এরমধ্যে রংপুর নগরীর পর্যটন এলাকায় অবস্থিত নিটল টাটা মটরস লিঃ এর পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। পরে নিটল টাটা মটরস লিঃ এর ব্যবস্থাপনায় লার্ভার উপস্থিতি ধ্বংশ করা হয়। এসময় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া নির্মানাধীন ভবন মালিক ও ঠিকাদার এবং নিটল টাটা মটরস লিঃ কে সতর্ক করে দেয়া হয়। সেই সাথে এর পরে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ জড়িমানা করা হবে বলে জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞ দলের সাথে থাকা বুড়িরহাট আঞ্চলিক গবেষণা ইন্সটিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশীদ বলেন, অভিযানের সময় কয়েকটি নির্মানাধীন ভবনগুলোতে অনেক ফ্লোরে পানি জমে আছে। সেখানে স্বচ্ছ পানি থাকায় এবং সাইফুন পাওয়ায় আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা পরবর্তিতে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে দেখি, সেখানে এডিস মশার লার্ভা উপস্থিতি রয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংশ করেছি।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান মৃধা জানান, রংপুর সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু মুক্ত করতে এবং যাতে কোনভাবে এডিস মশার বিস্তার না ঘটে সে জন্য মেয়র স্যারের নির্দেশে শ্যামাসুন্দরী খাল পরিস্কার করা হচ্ছে এবং সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশন যথেষ্ট বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী কর্মীরা কাজ করছেন। সেই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজকে থেকে অভিযান শুরু করেছি। অভিযানের প্রথম দিনে জড়িমানা করা হয়নি তবে, এরপরে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ অংকে জরিমানা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসময় নগরবাসীর কাছে এডিস মশার নির্মুলে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ইবনে তাজ, পরিছন্ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিজুসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।