সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পথে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কেউ কোরবানির পশুবাহী যানবাহন থামাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। রোববার বিকেলে সচিবালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
এ বছর সারাদেশে ৪ হাজার ৩৯৯টি পশুর হাট বসবে বলেও জানান মন্ত্রী। পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৯ বা ৩০ জুন দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশু ঠিকমত যাতে শহরে ঢুকতে পারে এবং পরিবহন যাতে সুন্দর হয় সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড় ও কোরবানির পশুর হাটে ওয়াচ টাওয়ার বসাব। পশুর হাটগুলো সিসি ক্যামেরায় আবৃত থাকবে। সারা দেশে ৪ হাজার ৩৯৯টি পশুর হাট বসবে বলে আমাদের কাছে এ পর্যন্ত খবর এসেছে। এসব হাটে নিরাপত্তা দিতে নিরাপত্তাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’
তিনি বলেন, ‘শুধু পুলিশ নয়, অনেকেই পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে থাকে। যদি কেউ পশুবাহী গাড়ি থামায় তাহলে স্থানীয় এসপিকে জানাতে হবে। এরপর তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো পশুবাহী নৌযান ও ট্রাক পরিবহনের সময় জোরপূর্বক নির্দিষ্ট কোনো হাটে যাতে বাধ্য করা না হয়, থামানো না হয়। সেজন্য ট্রাক বা যানের সামনে ব্যানারে লেখা থাকবে পশুবাহী যান কোন হাটে যাচ্ছে। পশুবাহী যানবাহন সড়ক, মহাসড়ক বা নদীতে কেউ থামাতে পারবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও থামাতে পারবে না। কেউ যান থামালে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কে কোনো প্রকার হাট যাতে না বসে আমরা সেটাও লক্ষ্য রাখব। পশুর হাটে হাসিলের সাইনবোর্ড দৃশ্যমান রাখতে হবে। পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকবে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীও নিয়োজিত থাকবে। পশুর হাটে জাল নোট সনাক্তকরণ মেশিন ও এটিএম বুথ থাকবে। বাস, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও ফেরিঘাটে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় থাকবে। মলম ও অজ্ঞান পার্টি যাতে কোনো কার্যক্রম করতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর থাকবে। পশুর হাটে ভেটেরিনারি চিকিৎসক থাকবেন।’
ঈদের ছুটিতে সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘র্যাবের দৃশ্যমান টহল থাকবে। যানজট নিরসনে মহাসড়ক, সড়ক ও শহর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে হাইওয়ে পুলিশ বা ব্যাটেলিয়ন আনসার থাকবে। যানজটপ্রবণ স্থানে ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণ করে যানজট নিরসন করা হবে।’
সারাদেশে ২৪টি স্থানকে যানজটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এই স্থানগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ ঈদযাত্রার জন্য হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয় করে কাজ করবে। মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশুর হাট বসলে তা যেন কোনোক্রমেই যেন মহাসড়কের ভেতর না আসতে পারে, সেজন্য ওই হাটের কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেরি ঘাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লক্ষ্য রাখবে। লঞ্চের ধারণ ক্ষমতার বাইরে কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। এজন্য লঞ্চ মালিকদের অনুরোধ করা হবে- তারা যেন লঞ্চের ওপরে ধারণ ক্ষমতা লিখে রাখেন।’