সংবাদ পোস্ট | জাতীয় | ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় জাপান। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রচলিত বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) বাইরে বিকল্প অর্থায়নের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আতসুশি মিমুরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
বিকল্প অর্থায়নে বিশেষ গুরুত্ব
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রচলিত বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে যৌথভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের বিকল্প পথ অনুসন্ধান এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন কোন অর্থায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী জাপান
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে জাপান। দেশটির অর্থায়নে বাংলাদেশে বিভিন্ন বড় অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতায় আরও বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন অর্থায়নব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার অংশ।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান
বৈঠকে দুই দেশ বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের শর্ত, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো নতুন প্রকল্পের অর্থায়ন চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সময়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, চুক্তি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্ট দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে আলোচনার বাস্তব ফলাফল।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।