ঢাকা: মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বড় চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক দল। তৃতীয় দিন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের খেলা আলোস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়। তখন জাকের আলী ও নাঈম হাসান ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। সপ্তম উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে এসেছে ২৬ রান।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান সংগ্রহ করেছিল। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অফস্পিনার নাঈম হাসান। তিনি ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম পান দুটি করে উইকেট।
এই ইনিংসে নাঈম হাসান টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেটও অর্জন করেন। বলের হিসাবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে এই মাইলফলকে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে সামান্য লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো শুরুর প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।
শামার জোসেফের বলে শূন্য রানে আউট হন তানজিদ হাসান। এরপর শাদমান ইসলাম ১৩ রান করে বিদায় নেন। তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রস্টন চেজ বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। তাঁর স্পিনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে।
দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৯ রান। হাতে থাকা শেষ চার উইকেট নিয়ে লিড বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন জাকের আলী ও নাঈম হাসানের সামনে।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পান বাংলাদেশের ব্যাটার মুমিনুল হক। পরে কনকাশনের কারণে তাঁকে প্রথম টেস্টের বাকি অংশ থেকে ছিটকে দেওয়া হয়।
তাঁর পরিবর্তে কনকাশন বদলি হিসেবে জাকের আলীকে দলে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে জাকের আলী দিনের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হাতে চার উইকেট থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় লিড গড়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জাকের আলী ও নাঈম হাসানকে জুটি ধরে খেলতে হবে। তাঁদের সঙ্গে পরের ব্যাটারদেরও অবদান রাখতে হবে।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্রুত বাংলাদেশের বাকি উইকেট তুলে নিয়ে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে। চতুর্থ দিনের খেলা তাই দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো যতটা সম্ভব লিড বাড়ানো এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লক্ষ্য তাড়া করতে নামার আগে চাপে রাখা।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ডেইলি সান।
বিভাগ: খেলাধুলা / ক্রিকেট
প্রতিবেদন: সংবাদ পোস্ট