সংবাদ পোস্ট | অর্থনীতি ডেস্ক
নিউইয়র্ক, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের লাভজনকতা নিয়ে উদ্বেগ এবং মার্কিন সরকারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর দুর্বল হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের মুখে পড়েছে মার্কিন মুদ্রাটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে প্রযুক্তি খাতের কিছু শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন।
এআই প্রযুক্তির বিস্তার চিপ, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের চাহিদা তৈরি করেছে। তবে এসব প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রত্যাশিত আয় সময়মতো না এলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
বিনিয়োগকারীরা এখন প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়, ঋণ এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। এর ফলে এআই-সম্পর্কিত শেয়ারের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
তবে এআই খাতে উদ্বেগের অর্থ এই নয় যে প্রযুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা শেষ হয়ে গেছে। বরং কোন প্রতিষ্ঠান কতটা ব্যয়ের বিপরীতে আয় করতে পারবে, সেটিই বাজারে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের মুখে পড়েছে। বন্ডের মুনাফা কমা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়নের পরিবর্তন ডলারের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ডলার সূচক ০.২ শতাংশ কমে ১০১.৮৯-এ নেমেছিল। ইউরোর দর বেড়ে ডলারপ্রতি নয়, বরং প্রতি ইউরো ১.১২২৬ ডলারে পৌঁছেছিল। ইয়েন ও ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতেও ডলারের দর কমার খবর পাওয়া যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার দর প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। তাই এসব সংখ্যা নির্দিষ্ট সময়ের বাজারচিত্র তুলে ধরে; এগুলোকে সারাদিনের চূড়ান্ত দর হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
ডলারের আন্তর্জাতিক দর কমলে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়, রেমিট্যান্সের মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছু প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাংলাদেশের বাজারে ডলারের দাম শুধু আন্তর্জাতিক ডলার সূচকের ওপর নির্ভর করে না।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার দুর্বল হলেই বাংলাদেশে ডলারের দাম একই অনুপাতে কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সুদনীতি, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল এবং এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সম্ভাব্য আয় পর্যবেক্ষণ করছেন।
এসব সূচকে পরিবর্তন এলে ডলার, বন্ড এবং শেয়ারবাজারে নতুন ওঠানামা দেখা দিতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থায়ী প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে ধারাবাহিক বাজারতথ্য পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ১৬ অক্টোবর ২০২৬; আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজার ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদন,https://www.reuters.com/world/asia-pacific/euro-gets-much-needed-reprieve-ai-wobbles-rock-dollar-2026-10-16/
সম্পাদনা নোট: ডলার সূচক ও মুদ্রাবিনিময় হার রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য। এগুলো পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।