সংবাদ পোস্ট | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের নতুন হামলার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার পর দুই দেশের যুদ্ধ এবং কিয়েভের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ সামনে এসেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মস্কো অবশ্য হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রিয়াজান অঞ্চলের তেল শোধনাগারে হামলাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া সমঝোতা লঙ্ঘন করে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রুশ কর্মকর্তারা ইউক্রেনের পদক্ষেপকে উসকানিমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।
যুদ্ধের সময় তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও সরবরাহব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে সামরিক সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো একটি হামলার কারণে বিশ্ববাজারে দামের পরিবর্তন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাজারের অন্যান্য পরিস্থিতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে। ইউক্রেনের নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমালোচনা করেছেন।

জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহারে বিধিনিষেধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল-সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এসব সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও যুদ্ধ পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থানের পেছনে জ্বালানির মূল্য, যুদ্ধের ব্যয় এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউক্রেন ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন এলে ইউরোপকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি দুই পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা করা জরুরি। জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের মতো সমঝোতা কার্যকর করতে হলে অভিযোগ তদন্ত, শর্তের স্পষ্টতা এবং পারস্পরিক সম্মতি প্রয়োজন।

তবে যুদ্ধ বন্ধে নতুন কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে রাশিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।
তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ১৫ অক্টোবর ২০২৬; রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।
সম্পাদনা নোট: হামলা ও কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আলাদা করে উপস্থাপন করা হয়েছে।