ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে ইন্দোনেশিয়া। স্বাগতিকদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বারবার সমস্যায় পড়ে। মাত্র ১১ মিনিটে মিচেল লি বেকার গোল করে ইন্দোনেশিয়াকে এগিয়ে দেন। ২০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এরপর ৩২ মিনিটে রিজকি রিধোর গোলে ইন্দোনেশিয়া ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর ৩৬ মিনিটে বাংলাদেশ একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। শূকির ক্রস থেকে শাহরিয়ার ইমন হেডে বল জালে পাঠান। এটি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম গোলও ছিল। তবে গোলের পরপরই আবারও বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়ায় ইন্দোনেশিয়া। এক মিনিটের ব্যবধানে বেকার নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
৪২ মিনিটে বেকার নিজের চতুর্থ গোল করলে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়ে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হুবনারের গোলে ইন্দোনেশিয়া ৬–১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিক দল।

বল নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণে ঢোকার চেষ্টায় সুকি -বাফুফে
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে সংগঠিত হয়ে খেলার চেষ্টা করে। ইন্দোনেশিয়া আক্রমণ চালিয়ে গেলেও বেশ কিছু সময় বাংলাদেশ আর গোল হজম করেনি। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্যবধান আরও বড় হওয়া ঠেকান।

সুযোগ নষ্টের পর উল্টো গোল হজম করেছে বাংলাদেশ -বাফুফে
তবে ম্যাচের শেষদিকে আবারও দ্রুত কয়েকটি গোল হয়। ৯০ মিনিটে লুক ভিকারি ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম গোল করেন। পরের মিনিটেই ফারহান আলী ওয়াহিদ বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর যোগ করা সময়ে কেভিন ডিকস এবং মিচেল লি বেকার আরও দুটি গোল করলে শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৯–২।
ইন্দোনেশিয়ার বড় জয়ের মূল নায়ক ছিলেন মিচেল লি বেকার। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি একাই পাঁচটি গোল করেন। ১১, ২০, ৩৭ ও ৪২ মিনিটে চার গোল করার পর যোগ করা সময়ে নিজের পঞ্চম গোলটি করেন তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের হয়ে শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদ একটি করে গোল করেন।
এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ গ্রুপে মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১–০ গোলে হেরেছিল। ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ। তিন ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ শূন্য পয়েন্ট।

প্রথমার্ধে ৬–১ গোলে পিছিয়ে বাংলাদেশ -বাফুফে
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া এই জয়ের ফলে গ্রুপে সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। একই সময়ে মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরকে ৬–০ গোলে হারালেও ইন্দোনেশিয়ার গোল ব্যবধান টপকাতে পারেনি।
ম্যাচের শেষদিকে যোগ করা সময় নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FAM) জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া–বাংলাদেশ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময় প্রথমে দুই মিনিট দেখানোর পর তা সাত মিনিট করা হয়েছিল। এ বিষয়ে FIFA-এর কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। FAM বলেছে, তারা ম্যাচের ফল চ্যালেঞ্জ করছে না; বরং সময় নির্ধারণ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা চায়।
সব মিলিয়ে, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯–২ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনকভাবে শেষ করেছে এবারের আসরের গ্রুপ পর্ব। তিন ম্যাচে তিন হার ও শূন্য পয়েন্ট নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করল লাল-সবুজের দল।