সংসদে সরকারি দলের (বিএনপি) সদস্যদের ‘আক্রমণাত্মক’ আচরণের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, তাদের কথা ও ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, ওরাই আওয়ামী লীগ আর আমরা বিএনপি-জামায়াত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
ড. তাহের বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তারা যে ভঙ্গিতে জামায়াতের বিরুদ্ধে বলতো এবং কন্ডেম করতো, ঠিক আজ সরকারি বেঞ্চ থেকে একই আচরণ লক্ষ্য করছি। অথচ আমরা সবাই মিলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি কেন আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, সংসদে আমাদের ‘রাজাকার-আলবদর’ বলা হচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা অত্যন্ত অসংসদীয়। অতীতের কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে গুণগত পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করা দরকার। শুধু মুখে ভালো কথা বললে হবে না, মানসিকতার পরিবর্তন চাই।
‘টু-থার্ড মেজরিটির অহংকার’
দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির (টু-থার্ড মেজরিটি) দাপট ও অহংকার অতীতে অনেক নেতার জন্য শুভ হয়নি উল্লেখ করে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকে অনেক সময় ‘ইরোগেন্স’ বা ঔদ্ধত্য তৈরি হয়, যা মানুষকে ক্ষুব্ধ করে।
তাহের বলেন, উপমহাদেশের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধী, বেনজির ভুট্টো, শেখ মুজিবুর রহমান এমনকি শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার সময়েও আমরা টু-থার্ড মেজরিটি দেখেছি। কিন্তু এর পরিণতি সবসময় সুখকর হয়নি। ক্ষমতা পেলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারি– এমন মানসিকতা থেকে অঘটন ঘটে। আমি বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করবো, অতীত থেকে শিক্ষা নিন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা ঐক্যমত্যের কথা বললেও এখন সংসদে একটি ভিন্ন চিত্র এবং হোস্টাইল এনভায়রনমেন্ট বা শত্রুতামূলক পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি, যা জাতিকে হতাশ করবে।
ম্যাডামের মুক্তির জন্য আমরা রাজপথে মিছিল করেছি
বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালীন জামায়াতে ইসলামী কোনও বিবৃতি দেয়নি– গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, এটি একেবারেই অসত্য কথা। আমরা শুধু বিবৃতি নয়, উনার মুক্তির জন্য রাজপথে মিছিলও করেছি।
তাহের বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতের সহযোগিতায় বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। তখন আমাদের মন্ত্রিত্ব নিতে বলা হলেও আমরা নেইনি। আমাদের ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আছে। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশের দিনও আমি ম্যাডামের বাসায় গিয়েছিলাম একটি বিবৃতির অনুরোধ নিয়ে। যদিও পরে সেটি দেওয়া হয়নি, কিন্তু ম্যাডামের জামায়াতের প্রতি সবসময় সিমপ্যাথি ছিল।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিবাদ সম্পর্কের হানি ঘটিয়েছে। ৯৬ সালে আমরা আলাদা নির্বাচন করেছিলাম, যার পরিণতি সবার জানা। বর্তমানেও কিছু ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সুস্থ ধারার রাজনীতি বজায় থাকে।