সংবাদ পোস্ট | রাজনীতি | ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে গাড়িবহরটি যাত্রা শুরু করে। এর আগে সেখানে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসনসহ সাত দফা দাবি সামনে রেখে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী সমাবেশে জোটের নেতারা
রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নেতারা তাঁদের বক্তব্যে জোটের দাবিগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজকদের দাবি, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা এবং দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
যে সাত দাবিতে লংমার্চ
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার। ২. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা। ৩. বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন। ৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ। ৫. দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। ৬. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ। ৭. প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব ও দলীয়করণ বন্ধ।
জোটের নেতাদের ভাষ্য, এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লংমার্চ ঢাকা থেকে শুরু হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ফকিরহাট হয়ে খুলনায় প্রবেশ করবে। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ পেরিয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে গাড়িবহরের।
পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়, খুলনার বিভিন্ন স্থান, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল রয়েছে।
দিনের কর্মসূচি শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভা আয়োজনের কথা রয়েছে। আয়োজকদের পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টায় এ সমাবেশ হওয়ার কথা।
অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ১৯টি জেলার অংশগ্রহণকারীদের যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন জোটের নেতারা।
লংমার্চের গাড়িবহরে শুরুতে প্রায় ৬০০ যানবাহন থাকার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও যানবাহন যুক্ত হয়ে মোট সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা ছিল।
জনদুর্ভোগ কমানোর আশ্বাস
দীর্ঘ এই কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন জোটের নেতারা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে বলেও তাঁরা জানিয়েছিলেন।
লংমার্চের অগ্রগতি, বিভিন্ন স্থানে পথসভার পরিস্থিতি এবং কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশের বিষয়ে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে কর্মসূচির সার্বিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন ও চ্যানেল আই অনলাইন।