সারাদেশ,
জেলা: রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি
বিষয়: পর্যটন ও নিরাপত্তা
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি থেকে খাগড়াছড়িতে ফেরার পথে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়েছেন পর্যটকেরা। বাঘাইছড়ির উজোবাজার (গঙ্গারাম) এলাকায় পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে দেওয়ার পর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িতে থাকা নারী, শিশু ও অন্য পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছান।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটককে অবরোধের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ফেরার পথে গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাজেক ভ্রমণে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাঈম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুই শিশুসন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ মোট ১৯ জন। সাজেকে অবস্থানের সময় অবরোধের খবর পেয়ে তাঁরা কীভাবে নিরাপদে ফিরবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হলেও পথে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। গোলাগুলির শব্দে গাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আরেক পর্যটক রাশেদ আহম্মেদ জানান, তাঁর শুক্রবার সকালে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু অবরোধের খবর পেয়ে আগেভাগেই সাজেক ছাড়ার প্রস্তুতি নেন। ফেরার পথে উজোবাজার এলাকায় তাঁদের গাড়ি প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে ছিল। এ সময় গুলির শব্দ শোনার পাশাপাশি তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ঢিলও ছোড়া হয়। তবে সেটি কারও গায়ে লাগেনি বলে জানান তিনি।
পর্যটকদের বর্ণনায়, হঠাৎ গুলির শব্দে শিশুদের কান্নাকাটি শুরু হয়। আশপাশে লোকজনকে ছোটাছুটি করতে দেখেও তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছানোর পর স্বস্তি ফিরলেও ঘটনার স্মৃতি তাঁদের মনে ভয় তৈরি করেছে।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে তৃতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়। এর আগে বুধবার দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং বুধবারের মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর গণবিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। কিন্তু সাজেক থেকে বের হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর উজোবাজার এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। তবে জেএসএসের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী নেই বলে জানানো হয়েছে।
উজোবাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ। ফলে ঘটনার দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
এদিকে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধা বেলা অবরোধ পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ নামের একটি সংগঠন।
সাজেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে অবরোধ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় ভ্রমণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।
পর্যটনকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি।
সূত্র: প্রথম আলো