জাতীয় / জ্বালানি , আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানির বিকল্প উৎস তৈরি এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত ডেইলি সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থায় জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা
সমঝোতা স্মারকের আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের উৎস বহুমুখী করার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একাধিক উৎসের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা কিংবা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিকল্প উৎসের সুযোগ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে। তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অর্থ এই নয় যে ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানির পরিমাণ, মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি ও চূড়ান্ত বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
যৌথ অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো জ্বালানি অবকাঠামো। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে যৌথভাবে তেল শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও উত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা মিলতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, কারিগরি মূল্যায়ন, বিনিয়োগ, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির ওপর।
বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ
জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ডেইলি সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে আলজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা জ্বালানি খাতের আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময়সূচি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কিংবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
বাণিজ্য, সার ও অন্যান্য খাতেও সহযোগিতার আলোচনা
জ্বালানির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, সার, শিক্ষা ও বস্ত্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সার আমদানির চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আলজেরিয়ার পক্ষ থেকে এ খাতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া আলজেরিয়ার বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমঝোতা থেকে বাস্তবায়নই এখন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ–আলজেরিয়া জ্বালানি সহযোগিতার উদ্যোগ দেশের জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব সুফলে রূপ দিতে আমদানির শর্ত নির্ধারণ, সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি এবং যৌথ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।
সমঝোতা স্মারকের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কত দ্রুত এগোয়, তার ওপরই এ সহযোগিতার বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের পরবর্তী আলোচনা এবং চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র: ডেইলি সান, ২৩ অক্টোবর ২০২৬;