ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি এড়াতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে সরকারের এই হুঁশিয়ারি এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আলোচনার পর ব্যবসায়ীরা তাঁদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এ অবস্থান তুলে ধরেন। এর আগে এলপিজি ব্যবসায়ীরা ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ ধরনের পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং আমদানির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তাদের জন্য দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার বিষয়ে কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে ধর্মঘটের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত কর্মসূচির পেছনে রয়েছে একাধিক দাবি। এর মধ্যে পরিবেশক ও বিক্রেতাদের কমিশন পুনর্বিবেচনা বা বাড়ানো, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ, জরিমানা নিয়ে আপত্তি এবং বাজারে অব্যবহৃত সিলিন্ডার ফিরিয়ে আনার মতো বিষয় রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় তাঁদের ব্যবসা পরিচালনায় নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
১২ অক্টোবর বাংলাদেশ এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন সংগঠনের নেতারা।
সরকারের হুঁশিয়ারির পর এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়। বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যবসায়ীরা তাঁদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান।
ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর বিইআরসিতে গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই শুনানিতে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দাবিগুলো পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফলে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা আর কার্যকর হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বাংলাদেশে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। সরবরাহ বন্ধ হলে বিশেষ করে যেসব পরিবার ও প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে পারে না, তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বাজারে পণ্যপ্রাপ্তি ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও ব্যবসায়ীদের দাবিগুলোর চূড়ান্ত সমাধান হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। ২৯ অক্টোবরের গণশুনানিতে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের দাবিগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান এবং ভোক্তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামনে প্রধান বিষয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে বৈঠক-সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।
সংবাদ পোস্ট | সংবাদে সত্য, তথ্যে নির্ভরতা