1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsadik1@gmail.com : Saimum Sadik : Saimum Sadik
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, তবু পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পাঁচ আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর কাছ থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তাবে সরকারের সম্মতি ঢাকা–কুমিল্লা উড়াল রেলপথের পরিকল্পনা, চট্টগ্রামের দূরত্ব কমতে পারে ৮০ কিলোমিটার স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত ও জরিমানার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু, রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টির বেশি ইউনিট চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো, ড্রোন হামলায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু পদত্যাগ করেননি চুয়েট উপাচার্য, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায় পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নতুন তথ্য

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে ৩,৫৯৩ কোটি টাকার ঋণচুক্তি, সুদ ২ শতাংশ

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭ জন দেখেছেন

২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে ঋণ, থাকছে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) সঙ্গে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীনা মুদ্রায় ঋণের পরিমাণ ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন ইউয়ান। ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, চীন সরকার এ প্রকল্পের জন্য ২ শতাংশ সুদে নমনীয় ঋণ দেবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ বছর, যার মধ্যে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা প্রাথমিক ছাড়কাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অর্থাৎ নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

চুক্তিতে সই করলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পক্ষে ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডির যুগ্ম সচিব আলিয়া মেহের। চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফেংজুন তিয়ান।

প্রকল্পটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

নির্মাণ করা হবে দুটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল

প্রকল্পের আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কনটেইনার সংরক্ষণের জন্য কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার সরবরাহ ও ডেলিভারির জন্য পৃথক ইয়ার্ড এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বন্দরের প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন করা হবে। এর ফলে পণ্য ওঠানো-নামানো, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা এবং বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকৃত সক্ষমতা কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং পরিচালন ব্যবস্থাপনার ওপর।

দেশের বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব

মোংলা বন্দর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর একটি। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে এ বন্দরের ভূমিকা রয়েছে। বন্দরের অবকাঠামো ও পণ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়লে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে কনটেইনার পরিবহনের জন্য নতুন টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মিত হলে পণ্য সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বন্দরের আধুনিকায়ন দেশের সামুদ্রিক পরিবহনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এর সুফল নির্ভর করবে বন্দরে পণ্য পরিবহনের চাহিদা, সড়ক ও নৌপথের সংযোগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহার এবং সামগ্রিক পরিচালন ব্যবস্থার ওপর।

ঋণের শর্ত কী?

চুক্তিতে উল্লেখিত প্রধান আর্থিক শর্তগুলো হলো—

  • ঋণের পরিমাণ: ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
  • বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ: প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
  • সুদের হার: বছরে ২ শতাংশ।
  • পরিশোধের মেয়াদ: ২০ বছর।
  • গ্রেস পিরিয়ড: পাঁচ বছর।
  • অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান: চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক।
  • বাস্তবায়নকারী সংস্থা: মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গ্রেস পিরিয়ড ও ঋণ পরিশোধের বিস্তারিত সময়সূচি চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী কার্যকর হবে। ঋণের প্রকৃত আর্থিক ব্যয় হিসাব করার ক্ষেত্রে সুদের পাশাপাশি অর্থ ছাড়ের সময়সূচি, পরিশোধের নিয়ম এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে নজর থাকবে সময় ও ব্যয়ের ওপর

বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পেও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্মিত অবকাঠামোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলে এ বিনিয়োগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা ব্যয় বৃদ্ধি ঘটলে প্রত্যাশিত সুফল পেতে সময় বেশি লাগতে পারে।

আধুনিকায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য

চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি মোংলা বন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দুটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এখন প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন, অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব থাকবে। প্রকল্পটি শেষ হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ও দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এর অবদান কতটা বাড়ে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের সাফল্য মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )