রোববার (১১ অক্টোবর) ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া দলকে সামাল দেন সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তাঁদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মেগান শুটের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারায় সফরকারীরা। শুরুতেই চাপের মুখে পড়লেও সোবহানা মোস্তারি ধৈর্য ধরে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন।
অন্য প্রান্তে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। দুজনের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে বাংলাদেশের ইনিংসে স্থিতি ফিরে আসে। পরিস্থিতি বুঝে কখনও রক্ষণাত্মক, কখনও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করেন তাঁরা।
সোবহানার ব্যাট থেকে আসে দৃষ্টিনন্দন শট। তাঁর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়তে থাকে এবং একসময় বাংলাদেশের সংগ্রহ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে যায়।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন সোবহানা মোস্তারি। শক্তিশালী অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য বড় সাফল্য।
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে এমন ইনিংস খেলতে প্রয়োজন ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার দক্ষতা। সোবহানার ইনিংসে সেই বৈশিষ্ট্যগুলোই ফুটে ওঠে।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এমন একটি ইনিংস দলের অন্য খেলোয়াড়দেরও আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম ওয়ানডেতে সাত উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ রান করে অলআউট হয়েছিল। জবাবে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২৫.৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। স্বাগতিকদের হয়ে ফোবি লিচফিল্ড ৫৭ বলে ৭৭ রান করেন এবং অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান।
প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও ভালো করতে হবে নিগার সুলতানার দলকে।
বাংলাদেশের সামনে এই সিরিজ শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও সুযোগ। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের উন্নতির জায়গাগুলোও চিহ্নিত করতে পারছেন।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৪ অক্টোবর, একই মাঠে। দ্বিতীয় ম্যাচের ফল সিরিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোবহানা মোস্তারির ঐতিহাসিক ইনিংস বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন উপলক্ষ তৈরি করেছে। এখন এই ব্যক্তিগত সাফল্যকে দলীয় সাফল্যে রূপ দিতে বোলার ও ফিল্ডারদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), এবিসি স্পোর্ট ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।