তবে অভিযুক্ত দুই বাবা দাবি করেছেন, তাঁরা সন্তানদের বিক্রি করেননি; বরং অন্য পরিবারের কাছে দত্তক দিয়েছেন এবং কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি। অন্যদিকে অন্তত তিন শিশুর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত নন। সর্বশেষ একটি শিশুকে বিক্রির অভিযোগ থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত গড়ায়।
গ্রামের ফারজানা বেগম গত ২ সেপ্টেম্বর একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। তাঁর স্বামী অটোরিকশাচালক জাকির মিয়া অভিযোগ করেন, জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রী, স্বজনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
জাকিরের দাবি, তিনি সন্তানের জন্মের বিষয়টি জানলেও পরে শিশুটিকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা জানতে পারেননি। তবে ফারজানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিশুটিকে তাঁর স্বামীই দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত।
গ্রামের ফারজানা বেগম গত ২ সেপ্টেম্বর একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি শিশুটিকে বিক্রি করে দেন বলে ৬ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী অটোরিকশাচালক জাকির মিয়া।
দুজনের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—শিশুটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নন। পরে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, জাকির মিয়া তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।
গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে শিশু হারিয়ে যাওয়া বা বিক্রির অভিযোগের পেছনে মাদকাসক্তি ও দারিদ্র্যের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবহার বেড়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারাও চরপুক্ষিয়ায় মাদকের সমস্যা থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁদের মতে, দারিদ্র্য ও অসচেতনতাও এ ধরনের ঘটনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
‘বল জাকির’ নামে পরিচিত আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর আগে নিজের তৃতীয় সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, সন্তানকে দত্তক দেওয়া হয়েছিল এবং কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। কিন্তু শিশুটিকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনিও স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
এ ছাড়া সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুই সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর তৃতীয় স্ত্রী সোহেনা বেগমের সন্তান আলহাতকে প্রায় ছয় মাস আগে অন্যের কাছে দেওয়া হয়। সাদ্দামের মা জানিয়েছেন, নাতির বর্তমান অবস্থান তিনি জানেন না।
আরেক ঘটনায় আসাদ ফকির ও তাঁর স্ত্রী সোমা আক্তারের নবজাতককে প্রায় ১০ মাস আগে দত্তক দেওয়ার কথা জানা গেছে। আসাদ দাবি করেছেন, শিশুটিকে আত্মীয়ের মাধ্যমে একটি প্রবাসী পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়নি।
সাদ্দামের তৃতীয় স্ত্রী সোহেনা বেগমের তিন সন্তান। প্রতিবেশীরা বলেন, এই দম্পতি প্রায় ছয় মাস আগে তাঁদের নবজাতক ছেলে আলহাতকে বিক্রি করেছেন।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আফরোজ জানিয়েছেন, শিশু বিক্রির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামও বলেছেন, অভিভাবকেরা চাইলে শিশুদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।
কটিয়াদী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চরপুক্ষিয়ায় মাদকের টাকার জন্য শিশু বিক্রির অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। তবে দারিদ্র্য ও অসচেতনতাকেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ সত্য কি না এবং শিশুদের প্রকৃত অবস্থান কোথায়—তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।