সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে প্রধান পাইলটের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ওমানের নাগরিক এবং ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট। তবে তাঁর পরিচয় ও হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করার পর মাঝ আকাশে ককপিটে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা হয়। হামলার পর উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
প্রথম আলো ও সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটের ওপর হামলা করেন। প্রধান পাইলট স্মিথ মছার হামলায় গুরুতর আহত হন। তাঁর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হলেও তিনি উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেন এবং শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। পরে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন।
একজন যাত্রী আসাফ রাজুয়ান জানান, কয়েকজন যাত্রী মিলে দ্রুত হামলাকারীকে কাবু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধস্তাধস্তি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, অভিযুক্ত সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মাত্র আট মাস ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করছিলেন। তবে তাঁর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নেতানিয়াহুর দাবি, ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজের কিছু যন্ত্রপাতি অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারী একটি কুঠার ব্যবহার করেছিলেন। তবে কুঠার ব্যবহারের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি কেন সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটের ওপর হামলা করেছিলেন। হামলার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তাধীন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করেছেন, হামলাকারীর উদ্দেশ্য ছিল উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করে এর আরোহীদের হত্যা করা। তবে এটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্তের চূড়ান্ত ফল নয়।
নেতানিয়াহুও বলেছেন, ঘটনার পেছনে অন্য কেউ সহযোগিতা করেছিল কি না কিংবা ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার পর প্রধান পাইলট আহত অবস্থাতেও উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। পরে ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি হলে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ভেতরে গিয়ে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এরপর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকল্প ফ্লাইটে করে তাঁরা ইসরায়েলে পৌঁছান।
অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলও তদন্তে যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। ওমান ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ওই ওমানি নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কাজ করছিলেন, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি—হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, হামলাকারীর কোনো সহযোগী ছিল কি না এবং কীভাবে তিনি ককপিটে প্রধান পাইলটের ওপর হামলার সুযোগ পেলেন। তদন্ত এগোলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।