ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নতুন করে হকার ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে এনেছে।
প্রথম আলোর উপসম্পাদক এ কে এম জাকারিয়ার এক মতামত কলামে বলা হয়েছে, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তবে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে দোকানপাট উচ্ছেদ করার পুরোনো পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান করতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে একপর্যায়ে হকার ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকার যান চলাচলও দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পর অনেক জায়গায় আবারও ফুটপাত বা সড়কে দোকান বসার ঘটনা ঘটেছে। ফলে শুধু অভিযান পরিচালনা করে হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
হকার উচ্ছেদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকায় পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার একটি ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে মতামত কলামে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সড়কে কোনো দোকান বসতে না দিয়ে ফুটপাতের প্রস্থ ও পথচারীদের চলাচলের বিষয় বিবেচনা করে নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা যেতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড় নির্বাচন করে সেখান থেকে সীমিতসংখ্যক এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এমন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। কয়েক মাস কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকাতেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এ ছাড়া মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর আশপাশে বিশেষ ব্যবস্থাপনার কথাও উঠে এসেছে। যেহেতু যাত্রীরা স্টেশনে নেমে হেঁটে বা অন্য পরিবহনে গন্তব্যে যান, তাই স্টেশনের আশপাশের ফুটপাত ও সড়ক পথচারী চলাচলের জন্য নির্বিঘ্ন রাখা প্রয়োজন।
হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে এবং একই সঙ্গে রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নিয়মিত তদারকি, নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ এবং সেই সীমানার বাইরে দোকান বসতে না দেওয়ার মতো ব্যবস্থা কার্যকর করা যেতে পারে।

ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে
তবে নির্দিষ্ট এলাকায় কারা ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকৃত হকারদের তালিকা তৈরি, স্বচ্ছভাবে জায়গা বরাদ্দ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ম ঠেকানো না গেলে পরিকল্পনাটি কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।
হকারদের জীবিকা ও রাজধানীর নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা—দুই দিক বিবেচনায় নিয়েই সমাধান খুঁজতে হবে। আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানের বদলে ধাপে ধাপে, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে একটি কার্যকর হকার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওই মতামত কলামে।