পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে মুসলিম নাবালিকা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ স্টাইলে পুলিশি এনকাউন্টার করেছে রাজ্য সরকার। এতে নিহত হয়েছেন মূল অভিযুক্ত। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ঘটনার পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয় প্রভাস মন্ডলকে। এর র থেকে পুলিশি হেফাজতেই ছিলেন প্রভাস।
বারুইপুর পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারুইপুরের ওই ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময় বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় প্রভাস পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটকাতে গুলি চালায়।
পুলিশের দাবি, গাড়ি থেকে নামানোর পরেই হঠাৎ পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে গুলি চালায় প্রভাস। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে সতর্ক করা হলেও তিনি না থামায় বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নারী সুরক্ষা নিশ্চিতে উত্তরপ্রদেশ স্টাইলে এই এনকাউন্টার রাতেজুড়ে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলায় ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, রেকর্ড করে রাখুন বিরোধী দলনেতার কথা, বিজেপি এলে এই ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব বিকালে খরচ করব। যোগী আদিত্যনাথ-হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথে সরকার চলবে, কথা দিয়ে গেলাম।
ঘটনাচক্রে, রাজ্যে ক্ষমতার বদলের পর বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ঠিক তেমনই এক ‘রোমহর্ষক’ ছবি দেখল বাংলা। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনকাউন্টার করা হলো মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে।
এদিকে প্রভাসকে এনকাউন্টারের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বারুইপুরকাণ্ডে সবার প্রথমে গ্রেপ্তার হয়েছিল প্রভাস। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও কয়েকজন ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রভাসের বয়ানে বার বার অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পুকুর থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধারে সহযোগিতা করে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয়রাই সিসিটিভি ফুটেছে দেখে প্রভাসকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশি জেরায় প্রভাস জানান, তাকে ১০ হাজার টাকার টোপ দিয়ে ওই নাবালিকাকে তুলে আনতে বলা হয়েছিল। প্রভাসের থেকে এও জানা যায় যে, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর বস্তাবন্দি করে দেহ ফেলা হয়েছিল পুকুরে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এও জানা গেছে যে, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সম্ভবত নাবালিকাকে বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হয়েছিল পুকুরে। প্রভাস জেরায় দাবি করেছিল দেহ ফেলার সময়েই তিনি গিয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে একই সঙ্গে এই মামলায় এতদিন পলাতক থাকা চতুর্থ অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে এই নৃশংস কাণ্ডের মূল চারজনই এখন পুলিশের জালে, যার মধ্যে একজন মৃত।
এদিকে বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনাতেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রোববার সকালে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ১১ বছর বয়সী এক নাবালিকার মরদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দোষীদের গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন এলাকাবাসী। রেলরোড অবরোধ করার পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে একাধিক পুলিশকে আহত করার অভিযোগ ওঠে। গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক নিরাপরাধ ব্যক্তিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করে রাজ্য সরকার। ঘটনার পর থেকে আজ বুধবারও উত্তপ্ত রয়েছে বারুইপুর।