সিলেটের প্রখ্যাত আলেম ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরীকে নিয়ে করা বক্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক। তার বক্তব্যকে কুরুচিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বালাগঞ্জ উপজেলার গহরপুর এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এম এ মালেক। এ সময় তিনি নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে এমপি মালেক দাবি করেন, গহরপুর এলাকাকে একসময় ‘পাকিস্তান’ মনে করা হতো। একই সঙ্গে তিনি মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর বাবা, প্রয়াত আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরীকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে উল্লেখ করেন।
তার এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন মহল থেকে এর সমালোচনা করা হয়। আল্লামা গহরপুরীর অনুসারী ও ভক্তরা বক্তব্যটিকে অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন। অনেকেই এম এ মালেকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, আল্লামা গহরপুরী দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাকে নিয়ে এমন মন্তব্যে তারা মর্মাহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এম এ মালেক। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা ও জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধী প্রার্থীর পক্ষ থেকে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পৃথক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।